S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা: রক্তচাপ কমানোর সহজ উপায়

January 17, 2026

 

প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের উপায়।
কলায় থাকা পটাশিয়াম ও ভিটামিন শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং হার্ট সুস্থ রাখতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর গুরুত্ব কতটা গভীর, তা অনেকেরই অজানা। রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণের কথা উঠলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একগুচ্ছ ট্যাবলেট, লবণের বিধিনিষেধ আর কঠোর ডায়েট চার্ট। অথচ আমাদের হাতের নাগালে থাকা একটি অতি সাধারণ ফল নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস শরীরের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে। পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন একটি বা দুটি কলা খাওয়ার অভ্যাস কেবল সাময়িক তৃপ্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার এক শক্তিশালী চাবিকাঠি।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, কলা কীভাবে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, এমনকি মানসিক অবসাদ দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং এর চমকপ্রদ সব দিক।

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা

রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। চিকিৎসকদের মতে, একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৪২০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে, যা আমাদের শরীরের দৈনিক চাহিদার একটি বড় অংশ। এই পটাশিয়াম রক্তনালির দেয়ালের পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ভ্যাসোডাইলেশন’। এর ফলে রক্তনালিগুলো কিছুটা প্রসারিত হয় এবং রক্ত চলাচলের পথ সহজ হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে রক্তচাপের ওপর।

তবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা পেতে হলে এটি নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদে খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন। চিকিৎসকরা বলছেন, একদিন বা কয়েক ঘণ্টায় বড় পরিবর্তন আশা করা ঠিক নয়, বরং টানা এক সপ্তাহ বা এক মাস এটি খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শরীর ও কিডনির ওপর কলার ইতিবাচক প্রভাব

টানা এক সপ্তাহ নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে আমাদের শরীর ও কিডনি ধীরে ধীরে এই নিয়মিত পটাশিয়াম সরবরাহের সাথে মানিয়ে নেয়। এই পর্যায়ে কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে শুরু করে। যেহেতু সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রেখে রক্তের আয়তন বাড়িয়ে দেয় (যা রক্তচাপ বৃদ্ধির প্রধান কারণ), তাই সোডিয়াম কমে গেলে রক্তচাপও স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এ সময় শরীরের ফোলাভাব কমে আসে এবং শরীর কিছুটা হালকা মনে হয়। দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতায় কিডনিকে সচল রাখতেও প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা অপরিসীম।

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিয়মিত পটাশিয়াম গ্রহণে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে। ৩৩টি ভিন্ন ভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিয়মিত পটাশিয়াম গ্রহণে মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ ৩ থেকে ৫ পয়েন্ট এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ২ থেকে ৩ পর্যন্ত কমতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণকারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ কম থাকে। হার্টের পেশিকে সচল রাখা এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা এখন বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত। পটাশিয়াম কেবল রক্তচাপই কমায় না, এটি মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং রক্তনালিকে নমনীয় রাখে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজম শক্তি বৃদ্ধিতে কলার ভূমিকা

অনেকেই মনে করেন কলা খেলে ওজন বাড়ে, কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। কলায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অসময়ে বাইরের খাবার বা অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা কমে যায়। কলায় থাকা ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ বা প্রতিরোধী শর্করা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। এটি সরাসরি রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না, বরং ধীরে ধীরে শরীরে শক্তি সরবরাহ করে।

বিশেষ করে যারা কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা জাদুকরী হতে পারে। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে, যা আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

রক্তাল্পতা প্রতিরোধে আয়রন ও ভিটামিনের জোগান

রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া বর্তমানে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং দ্রুত ক্লান্তি অনুভূত হয়। কলায় থাকা প্রচুর পরিমাণ আয়রন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে। এছাড়া কলার অন্যতম প্রধান উপাদান ভিটামিন বি-৬ রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ঠিক রাখে এবং হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ভিটামিন বি-৬ চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ একটি কলা থেকেই মেটানো সম্ভব। তাই সুস্থ রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা অস্বীকার করার উপায় নেই।

মানসিক প্রশান্তি ও ভালো ঘুমে প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলা হতে পারে আপনার প্রাকৃতিক ‘মুড বুস্টার’। কলায় থাকে ট্রিপ্টোফ্যান নামক এক ধরনের প্রোটিন, যা শরীরে গিয়ে ‘সেরোটোনিন’ হরমোনে রূপান্তরিত হয়। এই সেরোটোনিনকে বলা হয় ‘হ্যাপি হরমোন’ বা সুখের হরমোন। এটি মন ভালো রাখতে এবং মানসিক অবসাদ কমাতে দারুণ কার্যকর। পাশাপাশি কলায় থাকা ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে, যা গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে সাহায্য করে। মানসিক ক্লান্তি দূর করতে প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা পেতে নিয়মিত একটি করে কলা নাস্তার তালিকায় রাখা উচিত।

কলা নিয়ে প্রচলিত কিছু মিথ ও বাস্তবতা

আমাদের সমাজে কলা নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যা দূর করা প্রয়োজন:

১. ডায়াবেটিস ও কলা: ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে কলা খেতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, কলার সাথে যদি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (যেমন- বাদাম বা টকদই) খাওয়া হয়, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
২. রক্তচাপের একমাত্র সমাধান: কলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্যকারী একটি খাবার মাত্র, এটি কোনো ওষুধের বিকল্প নয়। একটি কলা একজন মানুষের দৈনিক পটাশিয়াম চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ করে।
৩. শক্তির উৎস: যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা অনন্য। এটি মাংসপেশিতে ক্র্যাম্প বা টান পড়া রোধ করে।

দিনে কয়টি কলা খাওয়া যথেষ্ট?

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন পটাশিয়ামের চাহিদা থাকে প্রায় ৩৫০০ থেকে ৪৭০০ মিলিগ্রাম। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন— দিনে ১ থেকে ২টি কলা খান। কেবল কলার ওপর নির্ভর না করে বাকি পটাশিয়ামের চাহিদা মেটাতে খাদ্যতালিকায় পালং শাক, মিষ্টি আলু, ডাল, অ্যাভোকাডো, নারকেল পানি বা টমেটো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা পূর্ণাঙ্গভাবে উপভোগ করা সম্ভব।

সুস্থ জীবনযাপনের মূল মন্ত্র

সবশেষে বলা যায়, সুস্থ থাকতে হলে কেবল একটি নির্দিষ্ট উপাদানের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। পুষ্টিবিদদের মতে, কলার মতো প্রাকৃতিক খাবারগুলো আমাদের দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় বা বিকেলের টিফিনে একটি কলা যোগ করার সিদ্ধান্তটি হতে পারে আপনার সুস্থ থাকার পথে একটি সহজ পদক্ষেপ। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘায়ু হওয়ার আসল চাবিকাঠি। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন এবং প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে সচেতন থাকুন।

(বি.দ্র: যাদের কিডনির দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা রয়েছে, তারা পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)

Comments