S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

১ জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ হচ্ছে

December 31, 2025

 

এক এনআইডিতে ৫টির বেশি অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার প্রক্রিয়া
১ জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রযুক্তি বিভাগ

অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার মাধ্যমে দেশের টেলিকম সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। অনিয়ম, ডিজিটাল জালিয়াতি এবং সিমের অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫টি মোবাইল সিম সক্রিয় রাখতে পারবেন। ৫টির বেশি সিম থাকলে সেগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, যারা বর্তমানে তাদের এনআইডির বিপরীতে ৫টির বেশি সিম ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য এই নিয়মটি বড় একটি পরিবর্তন নিয়ে আসবে। মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সুশাসনের স্বার্থে এই অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

বিটিআরসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মোবাইল সিমের অপব্যবহার বর্তমানে একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দেখা গেছে, অপরাধীরা অন্যের এনআইডি ব্যবহার করে বা অসাধু উপায়ে বিপুল সংখ্যক সিম সংগ্রহ করে। এতে করে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরণের অপরাধমূলক কাজ কমিয়ে আনতে সরকার এখন এক ব্যক্তির নামে সিমের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে যে, রাস্তাঘাটে সিম বিক্রির সময় কিছু অসাধু বিক্রেতা গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ) ব্যবহার করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করে রাখে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকরা জানতেই পারেন না যে তাদের নামে ৫টির বেশি সিম নিবন্ধিত হয়ে আছে। এই ধরনের অনিয়ম ঠেকাতেই অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম

বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে যাদের নামে ৬ থেকে ১০টি সিম সক্রিয় রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই সংখ্যা কমিয়ে ৫টিতে নামিয়ে আনা হবে। এটি হঠাৎ করে একদিনে নয়, বরং ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। তবে ১ জানুয়ারি থেকে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হবে। এর আগে গত আগস্ট মাসে বিটিআরসি নির্দেশনা দিয়েছিল যে, ১০টির বেশি সিম থাকলে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তা নিজ উদ্যোগে বাতিল করতে হবে। কিন্তু দেখা গেছে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম এখনো বাতিল করা হয়নি। তাই এখন সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে সেই অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

বর্তমান গ্রাহক ও বাজার পরিস্থিতি

বিটিআরসির সর্বশেষ অক্টোবর ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। গত ১০ বছরে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবির ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং সরকারি অপারেটর টেলিটকের ৬৬ লাখ ৭০ হাজার।

বিশ্বের সিম ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে নবম। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলো। এত বিশাল গ্রাহক সংখ্যা এবং বিপুল সংখ্যক নিবন্ধিত সিমের (প্রায় ২৬ কোটি ৬৩ লাখ) বিপরীতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি হাতে নিয়েছে বিটিআরসি।

বিটিআরসির অবস্থান ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এমদাদ উল বারী স্পষ্ট করেছেন যে, ১ জানুয়ারি থেকে কোনোভাবেই একজন গ্রাহকের নামে ৫টির বেশি নতুন সিম নিবন্ধন করা যাবে না। একই সাথে যাদের আগে থেকে বেশি সিম আছে, সেগুলোও বাতিলের আওতায় আসবে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান জানান, দীর্ঘ সময় সুযোগ দেওয়ার পরও যারা নিজ দায়িত্বে অতিরিক্ত সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করেননি, নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে সেই সব অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার কাজ অপারেটররা সম্পন্ন করবে। বিটিআরসি নিয়মিত এই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।

গ্রাহকের করণীয় কী?

আপনার ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা জেনে রাখা এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল জালিয়াতি এড়াতে আপনার অজান্তে অন্য কেউ আপনার পরিচয় ব্যবহার করছে কি না, তা যাচাই করতে যেকোনো মোবাইল থেকে *১৬০০১# ডায়াল করুন। ফিরতি মেসেজে এনআইডির শেষ ৪টি ডিজিট প্রদান করলেই আপনি নিবন্ধিত সিমের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা পেয়ে যাবেন। এই তালিকার বাইরে কোনো নম্বর আপনার নামে থাকলে, নিরাপত্তার স্বার্থে সেই অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কাস্টমার কেয়ারের সহায়তা নিন। নিজের পরিচয় সুরক্ষিত রাখা এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে এই সাধারণ পরীক্ষাটি আজই সম্পন্ন করা উচিত।

মোবাইল অপারেটরদের প্রতিক্রিয়া

বিটিআরসির এই সিদ্ধান্তে শুরু থেকেই কিছুটা আপত্তি জানিয়ে আসছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। তাদের মতে, হঠাৎ সিমের সংখ্যা কমিয়ে আনলে তাদের গ্রাহক সংখ্যার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ব্যবসায়িক স্বার্থের চেয়ে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপত্তা ও সুশাসনের স্বার্থে অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটবে না বিটিআরসি।

শেষ কথা

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই একটি স্মার্ট জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। সিম নিবন্ধনে এই স্বচ্ছতা একদিকে যেমন সাইবার অপরাধ কমিয়ে আনবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত মোবাইল সিম বন্ধ করার যে কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, তা বাস্তবায়নে নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। আপনার নিবন্ধিত সিমটি যেন আপনার অজান্তে অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন এবং সরকারি নিয়ম মেনে টেলিকম সেবাকে নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করুন।

দ্রষ্টব্য: এই সংবাদটি বিটিআরসি কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। সকল তথ্য ও পরিসংখ্যান বিটিআরসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী যাচাইকৃত।

Comments