S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

Redmi Turbo 4 Pro রিভিউ: ৭৫৫০mAh ব্যাটারির দানব

February 02, 2026

Redmi Turbo 4 Pro smartphone with 7550mAh battery
রেডমি টার্বো ৪ প্রো: ৭৫৫০ mAh ব্যাটারির শক্তিশালী স্মার্টফোন।

রেডমি টার্বো ৪ প্রো (Redmi Turbo 4 Pro): ৭৫৫০ mAh ব্যাটারির দানব! গেমারদের স্বপ্ন নাকি কেবলই হুজুগ? জানুন বিস্তারিত

স্মার্টফোনের বাজারে প্রতি বছরই নতুন নতুন চমক নিয়ে হাজির হয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। কখনো মেগাপিক্সেলের লড়াই, আবার কখনো প্রসেসরের গতি। তবে ২০২৫ সালটি যেন শুরু হয়েছে ব্যাটারির সক্ষমতা বাড়ানোর এক অঘোষিত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। আর এই যুদ্ধের ময়দানে একাই সব আলো কেড়ে নিয়েছে শাওমির সাব-ব্র্যান্ড রেডমির নতুন ধামাকা— Redmi Turbo 4 Pro

প্রযুক্তি বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ডিভাইসটি। এর মূল কারণ এর অবিশ্বাস্য ৭৫৫০ এমএএইচ (7550 mAh) ব্যাটারি এবং মাত্র ৮ মিলিমিটারের স্লিম বডি। আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হওয়া এই প্রকৌশলটিই করে দেখিয়েছে শাওমি। পাশাপাশি এতে অভিষেক ঘটেছে কোয়ালকমের শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৮এস জেন ৪ চিপসেটের। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কাগজে-কলমে বা বিজ্ঞাপনে যতটা গর্জন শোনা যাচ্ছে, বাস্তবে কি এই ফোন ততটা বর্ষণকারী? নাকি ক্যামেরার দুর্বলতা এবং চাইনিজ রমের জটিলতায় এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হবে? আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা ব্যবচ্ছেদ করব রেডমির নতুন এই সেনসেশনকে।

Redmi Turbo 4 Pro এর ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি: আইফোনের আদলে স্লিম পাওয়ারহাউজ

প্রথম দর্শনেই Redmi Turbo 4 Pro আপনাকে চমকে দিতে বাধ্য। সাধারণত ৭০০০ বা ৭৫০০ এমএএইচ ব্যাটারির ফোনগুলোর কথা ভাবলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইটের মতো ভারী এবং মোটা কোনো ডিভাইস। কিন্তু রেডমি এখানে জাদুকরী কিছু করেছে। সিলিকন-কার্বন (Si/C) প্রযুক্তির ব্যাটারি ব্যবহারের ফলে তারা ফোনটির পুরুত্ব রাখতে সক্ষম হয়েছে মাত্র ৮ মিলিমিটারে। এটি হাতে নিলে বিশ্বাস করা কঠিন যে, এর পেটের ভেতর এত বিশাল শক্তির উৎস লুকানো আছে।

ডিজাইনের ক্ষেত্রে শাওমি এবার কিছুটা আইফোন দ্বারা অনুপ্রাণিত। ফোনটির বক্সি শেপ বা সমান্তরাল ফ্রেম, পেছনের গ্লাস বডি এবং ক্যামেরা মডিউলের অবস্থান—সবকিছুতেই আইফোন ১৬ বা ১৫ প্রো ম্যাক্সের একধরনের ছায়া লক্ষ্য করা যায়। এটি অনেকের কাছে প্রিমিয়াম অনুভুতি দিলেও, চওড়া বডির কারণে এক হাতে ফোনটি অপারেট করা বেশ কষ্টসাধ্য হতে পারে। তবে এর বিল্ড কোয়ালিটি অত্যন্ত মজবুত। অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম এবং গ্লাস ব্যাকের সমন্বয়ে তৈরি এই ফোনটি হাতে ধরলে বেশ সলিড এবং টেকসই মনে হয়। পানি ও ধুলোবালি থেকে সুরক্ষার জন্য এতে রয়েছে IP68 রেটিং, যা এই বাজেটের ফোনের জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট।

ডিসপ্লে: বেজেলহীন অভিজ্ঞতার হাতছানি

ফোনটির সামনের দিকে তাকালে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য। Redmi Turbo 4 Pro এর ৬.৮৩ ইঞ্চির অ্যামোলেড (AMOLED) ডিসপ্লের চারপাশের বেজেল এতটাই সরু যে, মনে হবে আপনি হাতে শুধু একটি স্ক্রিন ধরে আছেন। বেজেলের এই সরুত্বের দিক থেকে এটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সকেও টেক্কা দিতে সক্ষম।

ডিসপ্লেটির স্পেসিফিকেশনও নজরকাড়া:

  • রিজোলিউশন: ১২৮০ x ২৭৭২ পিক্সেল (1.5K)

  • রিফ্রেশ রেট: ১২০ হার্টজ

  • ব্রাইটনেস: পিক ব্রাইটনেস ৩২০০ নিটস

৩২০০ নিটস ব্রাইটনেস থাকার ফলে ভরদুপুরের কড়া রোদেও স্ক্রিন দেখতে কোনো সমস্যা হয় না। কালার রিপ্র প্রোডাকশন অত্যন্ত শার্প এবং পাঞ্চি, যা মাল্টিমিডিয়া বা কন্টেন্ট ওয়াচিংয়ের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এতে ডলবি ভিশন (Dolby Vision) এবং HDR10+ সাপোর্ট থাকায় ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের অভিজ্ঞতা হয় সিনেমাটিক।

Redmi Turbo 4 Pro এর পারফরম্যান্স: গেমিংয়ের এক নতুন দিগন্ত

এই ফোনটিকে যদি ‘পাওয়ার হাউজ’ বলা হয়, তবে ভুল হবে না। এই ফোনের মাধ্যমে স্মার্টফোন জগতে আত্মপ্রকাশ করেছে কোয়ালকমের নতুন চিপসেট Snapdragon 8s Gen 4 (4 nm)। এটি মূলত ফ্ল্যাগশিপ চিপসেটের একটি বিশেষ সংস্করণ যা পারফরম্যান্স এবং দামের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।

আমাদের পর্যবেক্ষণে এবং বেঞ্চমার্ক টেস্টে দেখা গেছে, Redmi Turbo 4 Pro তে ব্যবহৃত এই চিপসেটটি স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৩ (8 Gen 3) এর চেয়েও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। আনটুটু (AnTuTu) বেঞ্চমার্ক টেস্টে এর স্কোর এসেছে ১৮ লাখ ২৩ হাজার ৪৫০, যা এই বাজেটের ফোনের জন্য অবিশ্বাস্য। প্রসেসরটিতে মোট ৮টি কোর রয়েছে, যার মধ্যে প্রাইম কোরটি ৩.২১ গিগাহার্টজ গতির। মজার ব্যাপার হলো, এতে কোনো এফিসিয়েন্সি কোর নেই, সবগুলোই পারফরম্যান্স কোর। ফলে গেমিংয়ের সময় এটি যেমন দুর্দান্ত গতি দেয়, তেমনি ব্যাটারিও প্রচুর খরচ করে। কিন্তু বিশাল ব্যাটারি থাকায় সেই চিন্তাও থাকছে না।

গেমারদের জন্য সুখবর হলো, এতে হাই-গ্রাফিক্স গেমগুলো মাখনের মতো চলে। গেনশিন ইমপ্যাক্ট বা পাবজির মতো গেম সর্বোচ্চ সেটিংসে খেললেও ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপের দেখা মিলবে না। দীর্ঘক্ষণ গেমিংয়ে ফোনটি যাতে গরম না হয়, সেজন্য শাওমি এতে উন্নত কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করেছে।

ব্যাটারি ও চার্জিং: চার্জ ফুরোবে না সহজে!

এই ফোনের প্রধান ইউএসপি (Unique Selling Proposition) হলো এর ৭৫৫০ এমএএইচ (7550 mAh) ব্যাটারি। সাধারণ স্মার্টফোনে যেখানে ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি থাকে, সেখানে প্রায় দ্বিগুণ ক্ষমতার ব্যাটারি নিয়ে এসেছে Redmi Turbo 4 Pro, যা আপনাকে অনায়াসেই দুই দিনের ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। যারা হেভি ইউজার বা সারাদিন গেমিং করেন, তাদের জন্যও একদিনের ব্যাকআপ নিশ্চিত।

এত বড় ব্যাটারি চার্জ করতে সময় যেন বেশি না লাগে, সেজন্য বক্সে দেওয়া হয়েছে ৯০ ওয়াটের (90W) ফাস্ট চার্জার। যদিও ১২০ ওয়াট হলে আরও ভালো হতো, তবে ৯০ ওয়াট দিয়েও বেশ দ্রুতই ফোনটি ফুল চার্জ করা সম্ভব। তবে হতাশাজনক বিষয় হলো, এতে কোনো ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা নেই, যদিও এই বাজেটে সেটি খুব একটা প্রত্যাশিতও নয়।

ক্যামেরা: মুদ্রার উল্টো পিঠ

এতক্ষণ ফোনের গুণগান গাইলেও, মুদ্রার উল্টো পিঠটি বেশ হতাশাজনক। সত্যি বলতে, Redmi Turbo 4 Pro এর ক্যামেরা পারফরম্যান্স এর বাকি হার্ডওয়্যারের সাথে তাল মেলাতে পারেনি।

ফোনের পেছনে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে:
১. ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সর (Sony LYT-600, OIS সহ)
২. ৮ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড সেন্সর

মেইন ক্যামেরায় সনি সেন্সর ব্যবহার করা হলেও, ছবির প্রসেসিং খুব একটা আহামরি নয়। পর্যাপ্ত আলোতে এটি মোটামুটি ভালো ছবি তুললেও, কালার টোন অনেক সময় অতিরিক্ত বুস্ট করে ফেলে, যা ছবিতে কৃত্রিম ভাব নিয়ে আসে। লো-লাইটে বা কম আলোতে ছবিতে প্রচুর নয়েজ বা ঝিরঝিরে ভাব দেখা যায় এবং শার্পনেসের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্সটি কেবল নামমাত্র দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে খুব সাধারণ মানের ছবি তোলা যায়। আর সেলফির জন্য দেওয়া ২০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার মতো ছবি তুললেও, যারা ভ্লগিং বা প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি করতে চান, তাদের হতাশ করবে।

সফটওয়্যার ও কানেক্টিভিটি: চাইনিজ রমের বিড়ম্বনা

বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে যে ইউনিটগুলো পাওয়া যাচ্ছে, তা মূলত চীন থেকে আমদানিকৃত বা আনঅফিসিয়াল চাইনিজ ভেরিয়েন্ট। এতে রান করছে শাওমির নতুন HyperOS 2 এবং Android 15।

চাইনিজ রম হওয়ার কারণে এতে আগে থেকেই অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা ‘ব্লোটওয়্যার’ ইনস্টল করা থাকে, যা বিরক্তির কারণ হতে পারে। যদিও গুগল প্লে স্টোর ইনস্টল করে চালানো যায়, কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে লোকেশন ট্র্যাকিং বা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারে সাময়িক সমস্যা হতে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নোটিফিকেশন ডিলে (Delay)। হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারের মেসেজ অনেক সময় অ্যাপ ওপেন না করা পর্যন্ত আসে না। যারা Redmi Turbo 4 Pro এর অফিশিয়াল গ্লোবাল রমের জন্য অপেক্ষা করতে চান না, তাদের এই ছোটখাটো প্যারাগুলো সহ্য করেই ফোনটি চালাতে হবে।

কানেক্টিভিটির দিক থেকে এতে রয়েছে 5G সাপোর্ট, ওয়াই-ফাই ৬, ব্লুটুথ ৫.৪ এবং এনএফসি (NFC)। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এতে ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক এবং এফএম রেডিও বাদ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে Redmi Turbo 4 Pro এর দাম এবং প্রাপ্যতা

বর্তমানে বাংলাদেশে আনঅফিসিয়াল মার্কেটে এই ফোনটি বেশ কয়েকটি ভেরিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে। টেক এন্ড টক বিডি সহ বিভিন্ন শপে এর বর্তমান বাজার দর নিম্নরূপ (দোকানভেদে কমবেশি হতে পারে):

  • ১২ জিবি র‍্যাম + ২৫৬ জিবি রম: ৩২,০০০ - ৩৫,০০০ টাকার মধ্যে (আনুমানিক)

  • ১২ জিবি র‍্যাম + ৫১২ জিবি রম: ৪৮,০০০ টাকার আশেপাশে

  • স্পেশাল হ্যারি পটার এডিশন (১৬/৫১২ জিবি): ৫৫,০০০ টাকা

ফোনটি সদ্য বাজারে আসায় এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, মাসখানেকের মধ্যে ১২/২৫৬ জিবি ভেরিয়েন্টের দাম ৪০,০০০ টাকার নিচে স্থিতিশীল হবে, তখন এটি হবে বাজারের সেরা ডিল।

শেষ কথা: কাদের জন্য এই ফোন?

সবশেষে বলা যায়, Redmi Turbo 4 Pro নিঃসন্দেহে ২০২৫ সালের অন্যতম আলোচিত স্মার্টফোন। তবে এটি সবার জন্য নয়।

আপনি এটি কিনবেন যদি:

  • আপনার প্রধান অগ্রাধিকার হয় গেমিং এবং পারফরম্যান্স।

  • আপনি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ চান এবং বারবার চার্জ দেওয়ার ঝামেলা এড়াতে চান।

  • আপনি একটি স্লিম, সুন্দর এবং আইফোন সদৃশ ডিজাইনের ফোন খুঁজছেন।

আপনি এটি এড়িয়ে যাবেন যদি:

  • ক্যামেরা আপনার কাছে ফোনের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়।

  • চাইনিজ রমের নোটিফিকেশন সমস্যা বা ব্লোটওয়্যার নিয়ে আপনি বিরক্ত হন।

সব মিলিয়ে, ৩৫-৪৫ হাজার টাকার বাজেটে যারা ক্যামেরার চেয়ে র-পারফরম্যান্স এবং ব্যাটারিকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য এটি চোখ বন্ধ করে নেওয়ার মতো একটি অপশন। কেনার আগে অবশ্যই আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয়তা এবং ফোনের সুবিধা-অসুবিধাগুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Redmi Turbo 4 Pro রিভিউ-এর বিস্তারিত ভিডিও দেখুন-

ভিডিও সৌজন্যে: টাইনা টুইনা পাস (TTP)

Comments