🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন।🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে!🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।
ইরাকের ব্যাবিলন মরুভূমির এই কুয়ায় আজও বন্দি আছেন হারুত ও মারুত।
ধর্ম ও জীবন ডেস্ক ডেস্ক:
হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস শুরু হয়েছিল আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে, ইরাকের প্রাচীন নগরী ব্যাবিলনে। ইরাকের এক জনমানবহীন মরুভূমি। মাটির হাজার ফুট নিচে এক অন্ধকার কুয়ায় আজও এক করুণ আর্তনাদ ভেসে আসে বলে অনেকে মনে করেন। সেখানে লোহার শিকল দিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে দুটি সত্তাকে। হাজার বছর ধরে পিপাসায় তাদের কলিজা ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু এক ফোঁটা পানিও তাদের কপালে জুটছে না। তারা কোনো সাধারণ অপরাধী নন; তারা ছিলেন মহান আল্লাহর পবিত্র ফেরেশতা। তবে কি এমন ভয়ানক পাপে তারা জড়িয়েছিলেন যে, আসমান থেকে জমিনে নিক্ষিপ্ত হলেন? আজ আমরা এই প্রতিবেদনে জানবো হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস সম্পর্কে।
১. প্রাচীন ব্যাবিলন ও হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস এর প্রেক্ষাপট
ইতিহাসের পাতায় ইরাকের প্রাচীন নগরী ব্যাবিলন ছিল বিলাসিতা আর পাপের কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে ছিল ঝুলন্ত উদ্যান আর বিশাল অট্টালিকা, অন্যদিকে ছিল মদ, ব্যভিচার আর শয়তানের পূজা। আসমান থেকে ফেরেশতারা মানুষের এই অবাধ্যতা দেখে অবাক হতেন। তারা আল্লাহর কাছে মানুষের ধ্বংস কামনা করতেন। ফেরেশতাদের মনে এক প্রকার পবিত্র অহংকার ছিল যে, তারা কখনো আল্লাহর অবাধ্য হন না। এই পটভূমি থেকেই শুরু হয় হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস এর মূল প্রেক্ষাপট।
আল্লাহ তায়ালা তখন ফেরেশতাদের জানালেন যে, মানুষের মধ্যে 'নফস' বা কুপ্রবৃত্তি দেওয়া হয়েছে বলেই তারা প্রলোভনে পড়ে। যদি ফেরেশতাদেরও মানুষের মতো স্বভাব দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হতো, তবে তারাও হয়তো একই কাজ করত। ফেরেশতারা তখন বিনীতভাবে বললেন, তারা কখনোই আল্লাহর নাফরমানি করবেন না। এরপর এক মহাজাগতিক পরীক্ষা শুরু হলো। ফেরেশতাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে পরহেজগার দুজনকে নির্বাচন করা হলো— হারুত এবং মারুত।
২. পৃথিবীতে আগমন ও হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস এর নতুন মোড়
আল্লাহর বিশেষ হুকুমে হারুত এবং মারুত মানুষের রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে নেমে এলেন। তাদের মধ্যে মানুষের মতো ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং আবেগ তৈরি করে দেওয়া হলো। তাদের জন্য শর্ত ছিল চারটি: শিরক করা যাবে না, কাউকে হত্যা করা যাবে না, মদ পান করা যাবে না এবং ব্যভিচার করা যাবে না। তারা দিনের বেলা ন্যায়বিচারের কাজ করতেন এবং রাতে আল্লাহর গোপন নাম 'ইসমে আজম' পড়ে আসমানে ফিরে যেতেন।
তবে শয়তান তাদের পতনের জন্য জাল বিছিয়ে রেখেছিল। একদিন বিচারকক্ষে প্রবেশ করল 'জোহরা' নামের এক অদ্ভুত সুন্দরী নারী। ইতিহাসের কিতাব অনুযায়ী, তার মতো সুন্দরী নারী পৃথিবীতে খুব কমই দেখা গেছে। জোহরার রূপের মায়ায় যখন তারা দিশেহারা, ঠিক তখনই হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস এক নতুন এবং ভয়ংকর মোড় নেয়।
৩. পাপের জালে বন্দী হওয়া এবং হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস এর করুণ পরিণতি
হারুত ও মারুত জোহরার প্রেমে অন্ধ হয়ে পড়লেন। তারা তাকে পাওয়ার প্রস্তাব দিলে জোহরা শর্ত দিল। সে তাদের বলল, হয় মূর্তিপূজা করতে হবে, না হয় কাউকে হত্যা করতে হবে, অথবা মদ পান করতে হবে। তারা প্রথম দুটি কাজকে বড় গুনাহ মনে করে প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তুলনামূলক 'ছোট গুনাহ' মনে করে মদ পান করতে রাজি হলেন।
হায়! তারা জানতেন না যে মদ সব পাপের জননী। নেশার ঘোরে তারা জোহরার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলেন। ঠিক সেই সময় এক পথচারী তাদের দেখে ফেললে, জানাজানির ভয়ে তারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করলেন। মদ, জিনা ও খুনের মিশেলে হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস আমাদের দেখায় যে, একটি ভুল সিদ্ধান্ত কীভাবে জীবনের সব পুণ্য ধ্বংস করে দেয়।
৪. আসমানের দরজা বন্ধ ও হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস এ বর্ণিত চিরস্থায়ী শাস্তি
ভোরে যখন তাদের নেশা কাটল, তখন তারা দেখতে পেলেন পাশে একটির রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। তারা তওবা করার জন্য আসমানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তাদের স্মৃতি থেকে সেই পবিত্র 'ইসমে আজম' মুছে ফেলা হয়েছে। তাদের ডানাগুলো অকেজো হয়ে গেছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী এল— দুনিয়ার শাস্তি না আখেরাতের শাস্তি? তারা পরকালের যন্ত্রণার চেয়ে দুনিয়ার যন্ত্রণাই বেছে নিলেন।
ইরাকের সেই কুয়ায় তাদের বন্দী করার ঘটনাটি হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস এর সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অংশ। লোহার শিকলে উল্টো করে ঝুলিয়ে তাদের চোখের পাপড়ি কেটে ফেলা হয়েছে, যেন তারা এক মুহূর্তের জন্যও চোখ বন্ধ করতে না পারে। কেয়ামত পর্যন্ত তাদের এই কঠোর শাস্তি চলতে থাকবে।
৫. কালো জাদুর উৎপত্তি ও হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস থেকে শিক্ষা
ব্যাবিলনের সেই রহস্যময় কুয়াটি পরবর্তীকালে কালো জাদুর কেন্দ্রে পরিণত হয়। মানুষ যখন তাদের কাছে জাদু শিখতে আসত, হারুত ও মারুত আগে তাদের সাবধান করতেন। তারা বলতেন, "আমরা তো তোমাদের জন্য পরীক্ষা, আমাদের কাছ থেকে কুফরি শিক্ষা করো না।" কিন্তু লোভী মানুষরা তাদের কাছ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর মতো জঘন্য জাদুবিদ্যা শিখে নিত। কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিকের প্রসারের পেছনেও মূলত লুকিয়ে আছে হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস।
আমাদের জন্য শিক্ষা
পরিশেষে বলা যায়, হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। অহংকার মানুষের পতনের মূল কারণ হতে পারে। এমনকি পবিত্র ফেরেশতারাও যখন নফসের কাছে হার মেনেছেন, তখন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের উচিত প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাওয়া।
বর্তমানে পৃথিবীতে জাদু-টোনার যে বিস্তার দেখা যায়, তা আসলে সেই প্রাচীন অভিশপ্ত বিদ্যারই অংশ। ইসলামে জাদু করা বা জাদুকরের কাছে যাওয়া কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হারুত মারুতের লোমহর্ষক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে চলার এবং শয়তানের সব ধরণের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।
তথ্যসূত্র: সূরা বাকারা (আয়াত ১০২), তাফসিরে ইবনে কাসির, ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ইসলামিক কিতাব।
আপনি যদি এই সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চান নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন,(সৌজন্যে: SOLDIER OF ISLAM):
Comments
Post a Comment