S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার: সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান

January 19, 2026

 

নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকের উর্ধ্বমুখী অবস্থান।
শেয়ার বাজারে নির্বাচনী আমেজ ও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা

নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার এখন দেশের বিনিয়োগকারীদের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের দীর্ঘ ১৭ মাস পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে পুঁজিবাজারে নানা অস্থিরতা ও মন্দা বিরাজ করলেও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে আর মাত্র ২৪ দিন পরই অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনী ডামাডোলের ইতিবাচক প্রভাবে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনের গতি ও সূচকের বড় উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার: সপ্তাহের শুরুতেই সূচকের বড় লাফ

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই দেশের বিনিয়োগকারীরা এক নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছেন। লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচক উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতাদের চাপ বাড়তে থাকে এবং অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়তে শুরু করে। ডিএসই’র তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রড ইনডেক্স (DSEX) আগের দিনের তুলনায় ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূলত নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার এর ফলে সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

একই সাথে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। দিনের শেষভাগে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৯০টির দাম বেড়েছে, যা বাজারের সামগ্রিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ। বিপরীতে মাত্র ৪২টি কোম্পানির দর কমেছে এবং ৫৭টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেনে বড় চমক এবং নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার

পুঁজিবাজারে কেবল সূচক বাড়লে তাকে স্থিতিশীল বলা যায় না, যদি না লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। রবিবারের বাজারে লেনদেনের চিত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ডিএসইতে এদিন মোট ৪৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৯৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার প্রবাহ প্রমাণ করে যে, নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার এর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন যারা বাজারের বাইরে সাইডলাইনে বসে ছিলেন, তারা এখন আবার সক্রিয় হচ্ছেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পূর্বাভাস পেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। যখন বাজারে নতুন ফান্ড প্রবেশ করে, তখন লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পায়, যা বর্তমান বাজারে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার

দীর্ঘ ১৭ মাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের হাহাকার তৈরি হয়েছিল। তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর সেই অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে। অতীতে দেখা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে বাজারে এক ধরনের তেজি ভাব থাকে। যদিও কিছু ঝুঁকি থাকে, তবে এবারের পট-পরিবর্তন পরবর্তী প্রথম নির্বাচন হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন স্বপ্নের পথে হাঁটছেন।

নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার হওয়ার পেছনে বড় একটি কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারের দাম যখন ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন স্তরে থাকে, তখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে উৎসাহিত হন। বর্তমানে ডিএসইতে অনেক ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার দর অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। ফলে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করলে আগামীতে ভালো লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বইছে নির্বাচনী হাওয়া

ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)-তেও দেখা গেছে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা। নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার এর প্রভাব চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বাজারেও সমানভাবে অনুভূত হচ্ছে। সিএসই’র সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। দিনভর লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৩টি কোম্পানির মধ্যে ৯৭টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৪৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। সিএসইতে মোট ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় সন্তোষজনক।

বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সতর্কবার্তা

অর্থনীতিবিদ এবং পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বাজারের এই প্রাণচাঞ্চল্য ইতিবাচক হলেও এখানে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার দেখে অনেক সময় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা হুজুগে বা গুজবের ভিত্তিতে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বসেন। বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো, কেবলমাত্র নির্বাচনের আমেজ দেখে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির অতীত পারফরম্যান্স, পিই রেশিও এবং ডিভিডেন্ড রেকর্ড দেখে বিনিয়োগ করা উচিত।

তারা আরও বলছেন, আগামী ২৪ দিনের রাজনৈতিক পরিবেশ বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে। যদি দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, তবে নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার কেবল একটি ট্রেন্ড নয়, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।

কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ?

পুঁজিবাজার হলো একটি দেশের অর্থনীতির আয়না। গত ১৭ মাস ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই আয়নায় যে ধুলো জমেছিল, তা নির্বাচনী ঘোষণার মাধ্যমে পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সংকেত দেয়। যখন শেয়ারবাজার গতিশীল হয়, তখন শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, যার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট বৃদ্ধি পাবে।

আগামী দিনের সম্ভাবনা ও নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার

আগামী কয়েক দিন বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিএসই সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের ওপরে টেকসই হওয়া মানে হলো বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বাজারে আছেন। নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার বজায় থাকলে খুব শীঘ্রই লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের উচিত হবে পোর্টফোলিও ডাইভারসিফাই করা এবং ভালো ব্লু-চিপ শেয়ারগুলোতে নজর রাখা। মনে রাখতে হবে, যেকোনো বড় পরিবর্তনের আগে বাজার কিছুটা সংশোধনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ট্রেন্ড এখন পজিটিভ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাজার স্থায়িত্ব

পরিশেষে বলা যায়, দেশের পুঁজিবাজার এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ১৭ মাসের প্রতীক্ষা শেষে নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের মনে যে আশার সঞ্চার করেছে, তার ফলশ্রুতিই হলো আজকের নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার। সূচকের বড় উত্থান আর লেনদেনের বৃদ্ধি কেবল সংখ্যা নয়, এটি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

সরকার এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি) যদি এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সঠিক পদক্ষেপ নেয় এবং কারসাজি রোধে কঠোর থাকে, তবে নির্বাচনের পর বাজার আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে। নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার যেন কোনো কৃত্রিম বুদ্বুদ না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ আর স্বচ্ছ ব্যবসায়িক নীতিমালা বজায় থাকলে দেশের পুঁজিবাজার এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী বাজারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

সামনের ২৪ দিন বাজারে কিছুটা চড়াই-উতরাই থাকতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী হাওয়ায় চাঙ্গা পুঁজিবাজার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো মূলধন ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে লাভের আশা করতে পারেন। তাই আতঙ্কিত না হয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে এই সময়ের সেরা কৌশল।

Comments