🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন।🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে!🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।
ওপো রেনো ১৫ রিভিউ: ৬৫০০mAh ব্যাটারি ও শক্তিশালী ক্যামেরা
January 18, 2026
পো রেনো ১৫-এর আকর্ষণীয় স্লিম এবং নান্দনিক ডিজাইন
ওপো রেনো ১৫ রিভিউ: ৬৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে কতটা শক্তিশালী এই স্মার্টফোন?
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে অস্থিরতা এখন এক নিত্যসঙ্গী। চিপসেট, স্টোরেজ আর র্যামের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে গ্রাহকদের ওপর। ঠিক এই বৈরী সময়েই দেশের স্মার্টফোন বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে ওপো নিয়ে এলো তাদের নতুন সেমি-ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস 'OPPO Reno 15'। প্রিমিয়াম ডিজাইন, বিশাল ব্যাটারি আর শক্তিশালী প্রসেসরের সমন্বয়ে তৈরি এই ফোনটি কি পারবে বাজেট আর পারফরম্যান্সের লড়াইয়ে টিকে থাকতে? আজকের বিস্তারিত ওপো রেনো ১৫ রিভিউ-তে আমরা সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজব।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি: নান্দনিকতার পরিচয়
ওপোর রেনো সিরিজ মানেই এক চমৎকার ডিজাইনের সমাহার। ওপো রেনো ১৫ রিভিউ করতে গিয়ে আমাদের প্রথমেই নজর কেড়েছে এর গ্লসি ব্যাক প্যানেল এবং স্লিম বডি। ফোনটির ফ্রেম তৈরি করা হয়েছে উন্নত মেটাল দিয়ে, যা একে প্রিমিয়াম লুক দেওয়ার পাশাপাশি টেকসই করে তুলেছে। এর পেছনের অংশে গরিলা গ্লাস ৭আই-এর সুরক্ষা রয়েছে, যা স্ক্র্যাচ থেকে ফোনটিকে রক্ষা করবে।
৭.৮৯ মিলিমিটার পুরুত্ব এবং মাত্র ১৯৭ গ্রাম ওজনের এই ফোনটি হাতে ধরলে বেশ আরামদায়ক মনে হয়। ফোনটি অরোরা ব্লু, টোয়াইলাইট ব্লু এবং অরোরা হোয়াইট—এই তিনটি চমৎকার রঙে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফোনটি কিছুটা স্লিপারি বা পিচ্ছিল হওয়ার কারণে ব্যাক কভার ব্যবহার করা জরুরি। স্থায়িত্বের দিক থেকে এতে আইপি৬৮ এবং আইপি৬৯ রেটিং রয়েছে, যা ধুলাবালি ও উচ্চচাপের পানির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
ডিসপ্লে পারফরম্যান্স: স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল
ওপো রেনো ১৫ রিভিউ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর ডিসপ্লে। এতে রয়েছে ৬.৫৯ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস অ্যামোলেড (AMOLED) প্যানেল। ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং ৪৬০ পিপিআই পিক্সেল ডেনসিটি থাকার কারণে এর ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মসৃণ। ১.০৭ বিলিয়ন কালার সাপোর্ট থাকায় ভিডিও বা ছবির কালারগুলো অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও বাস্তবসম্মত মনে হয়।
ডিসপ্লেটির পিক ব্রাইটনেস ১২০০ নিটস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যার ফলে সরাসরি সূর্যের আলোতেও স্ক্রিন দেখতে কোনো অসুবিধা হয় না। সিমেট্রিক্যাল ন্যারো বেজেল ফোনটিকে একটি আধুনিক ও বেজেল-লেস লুক দিয়েছে। ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি বেশ দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে কাজ করে।
ওপো রেনো ১৫ রিভিউ: হার্ডওয়্যার ও নতুন চিপসেটের ক্ষমতা
দীর্ঘদিন ডাইমেনসিটি চিপসেট ব্যবহারের পর ওপো এবার স্ন্যাপড্রাগনের দিকে ঝুঁকেছে। এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের একদম নতুন 'স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪' (Snapdragon 7 Gen 4) চিপসেট। ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই ৫জি প্রসেসরটি মূলত আপার মিড-রেঞ্জ ডিভাইসের জন্য তৈরি। এতে একটি ২.৮ গিগাহার্টজ কর্টেক্স ৭২০ প্রাইম কোর এবং চারটি পারফরম্যান্স কোর রয়েছে।
গ্রাফিক্সের জন্য এতে দেওয়া হয়েছে অ্যাড্রিনো ৭২২ জিপিইউ। ১২ জিবি এলপিডিআর ৫এক্স র্যামের সাথে ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ব্যবহারের ফলে মাল্টিটাস্কিংয়ে কোনো ঘাটতি পাওয়া যাবে না। তবে আমাদের এই ওপো রেনো ১৫ রিভিউ-তে একটি বিষয় একটু খটকা লেগেছে, আর তা হলো এতে ইউএফএস ৩.১ স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে। ৮০ হাজার টাকা বাজেটের একটি ফোনে ইউএফএস ৪.০ প্রত্যাশিত ছিল। বেঞ্চমার্ক টেস্টে আনতুতু স্কোর এসেছে প্রায় ১৪ লাখ ৬৫ হাজারের উপরে, যা এর পারফরম্যান্সের সক্ষমতা প্রমাণ করে।
গেমিং এবং ডেইলি ইউসেজ অভিজ্ঞতা
দৈনন্দিন ব্যবহারে ফোনটি বেশ দ্রুত এবং রেসপন্সিভ। অ্যাপ ওপেন হওয়া বা ক্লোজ করার সময় কোনো ল্যাগ বা হিকাপ চোখে পড়েনি। গেমিং টেস্টে পাবজি (PUBG) এবং কল অফ ডিউটির মতো গেমগুলো হাই সেটিংসে চমৎকারভাবে চলেছে। দীর্ঘক্ষণ গেমিং করলে ফোনটি সামান্য গরম হতে পারে, তবে তা দ্রুতই আবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে। যারা মডারেট গেমিং করেন, তাদের জন্য এই ফোনটি একটি আদর্শ পছন্দ হতে পারে। কালারওএস ১৬ এবং অ্যান্ড্রয়েড ১৬-এর সমন্বয়ে এর সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি ক্লিন এবং পলিশড।
ওপো রেনো ১৫ রিভিউ: কেমন হলো এর ক্যামেরা পারফরম্যান্স?
ওপো রেনো সিরিজ সবসময়ই ক্যামেরার জন্য পরিচিত। এই ফোনের পেছনে তিনটি সেন্সরই অত্যন্ত কার্যকর। ৫০ মেগাপিক্সেলের মেইন সেন্সর (f/1.8) দিয়ে দিনের আলোতে বেশ শার্প এবং ডিটেইলড ছবি তোলা সম্ভব। এর ডায়নামিক রেঞ্জ এবং এক্সপোজার কন্ট্রোল বেশ ভালো। দ্বিতীয় লেন্সটি হলো ৫০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স, যা ৩.৫এক্স অপটিক্যাল জুম সাপোর্ট করে। এর মাধ্যমে তোলা পোর্ট্রেট ছবিগুলো ডিএসএলআর কোয়ালিটির কাছাকাছি অনুভূত হয়।
এছাড়া ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্সটি দিয়ে গ্রুপ ফটো তোলা সহজ। সেলফি প্রেমীদের জন্য সামনে রয়েছে ১০০ ডিগ্রি ফিল্ড অফ ভিউ সহ ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ব্লগিং বা সেলফি তোলার জন্য এটি বাজারের অন্যতম সেরা ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফ্রন্ট এবং ব্যাক—উভয় ক্যামেরা দিয়েই ৪কে ৬০ এফপিএস-এ ভিডিও রেকর্ড করা সম্ভব। আমাদের ওপো রেনো ১৫ রিভিউ অনুযায়ী, এর ক্যামেরা সেকশন ব্যবহারকারীদের হতাশ করবে না।
বিশাল ব্যাটারি ও চার্জিং প্রযুক্তি
ফোনটিতে রয়েছে ৬৫০০ এমএএইচ-এর একটি বিশাল ব্যাটারি। বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ একটি বড় পাওয়া। মডারেট ব্যবহারে এই ফোনটি অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। আর চার্জিংয়ের জন্য বক্সে দেওয়া হয়েছে ৮০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, মাত্র ৫০ মিনিটেই ফোনটি সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে যায়। বড় ব্যাটারি থাকার পরেও ফোনটি খুব বেশি ভারী মনে না হওয়া ওপোর একটি বড় সার্থকতা।
কানেক্টিভিটি ও অতিরিক্ত ফিচার
ওপো রেনো ১৫-এ প্রথমবারের মতো ই-সিম (eSIM) সাপোর্ট যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এতে ৫জি নেটওয়ার্ক, ওয়াইফাই ৬, ব্লুটুথ ৫.৪ এবং আইআর ব্লাস্টার রয়েছে। স্টেরিও স্পিকারের সাউন্ড আউটপুট বেশ লাউড এবং ক্লিয়ার, যা সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এনএফসি সুবিধা থাকায় কন্টাক্টলেস পেমেন্টও খুব সহজে করা যাবে।
মূল্য ও বাজার বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে ওপো রেনো ১৫-এর ১২/২৫৬ জিবি ভেরিয়েন্টের অফিশিয়াল দাম রাখা হয়েছে ৭৯,৯৯০ টাকা। ওপো ভক্তদের জন্য এটি একটি প্রিমিয়াম প্যাকেজ হলেও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে এই দাম কিছুটা বেশি মনে হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে একই দামে অনেক ব্র্যান্ড আরও শক্তিশালী প্রসেসর অফার করছে। তবে ওপো তাদের দীর্ঘস্থায়ী সার্ভিস এবং সফটওয়্যার স্ট্যাবিলিটির মাধ্যমে সেই দামের ন্যায্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছে।
ওপো রেনো ১৫ রিভিউ: আমাদের চূড়ান্ত রায় ও শেষ কথা
সবকিছু বিবেচনা করলে ওপো রেনো ১৫ একটি সুষম বা ব্যালেন্সড স্মার্টফোন। যারা স্টাইলিশ ডিজাইন, চমৎকার ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ পছন্দ। আমাদের এই ওপো রেনো ১৫ রিভিউ-এর শেষে বলা যায়, ফোনটির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো এর ক্যামেরা এবং ব্যাটারি লাইফ।
তবে আপনি যদি শুধুমাত্র হার্ডকোর গেমিং বা কাঁচা পারফরম্যান্সের জন্য ফোন খুঁজেন, তবে বাজারের অন্যান্য ফোনের সাথে এটি তুলনা করে নিতে পারেন। বাজেট যদি কোনো সমস্যা না হয় এবং আপনি যদি একটি রিলায়েবল প্রিমিয়াম ফোন চান যা আগামী ৩-৪ বছর অনায়াসে চলবে, তবে ওপো রেনো ১৫ আপনার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকতে পারে। স্মার্টফোনের এই বিশাল বাজারে ওপো রেনো ১৫ তার নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে গ্রাহকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
Comments
Post a Comment