🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন।🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে!🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।
শরীফ ওসমান হাদির কবিতা ও তার মহান জীবনদর্শন আজ প্রতিটি দেশপ্রেমিক বাঙালির হৃদয়ে এক নতুন সাহসের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কেনা এক নতুন স্বাধীনতার ইশতেহার। এই বিপ্লবের প্রতিটি পরতে এমন কিছু সাহসী মানুষের রক্ত মিশে আছে, যারা তাদের মেধা ও জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে—বাঙালি জাতি কখনো কারো আধিপত্য মাথা পেতে নেবে না। এই বীরত্বগাথার এক অবিস্মরণীয় নাম শরীফ ওসমান হাদি। সম্প্রতি ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা হাদির জীবনদর্শন নিয়ে আলোচনার সময় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন শরীফ ওসমান হাদির কবিতা ও তার অন্তর্নিহিত গভীর অর্থ।
সার্বভৌমত্বের লড়াই ও শরীফ ওসমান হাদির কবিতা
শরীফ ওসমান হাদি কেবল একজন প্রতিবাদী মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন তীক্ষ্ণ ধীসম্পন্ন কবি। তার লেখনীতে ফুটে উঠত সমসাময়িক রাজনীতি, বিশ্বব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের পিষ্ট হওয়ার করুণ আখ্যান। শরীফ ওসমান হাদির কবিতা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে কীভাবে জীবনের বিনিময়েও নিজের অধিকার আদায় করতে হয়। তার একটি কবিতায় তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লিখেছিলেন— "হে সীমান্তের শকুন এক্ষুনি ছিঁড়ে খাও আমাকে, হে আটলান্টিকের ইগল শিগগির খুবলে খাও আমাকে, হে বৈকাল হ্রদের বাজ আছড়ে কামড়ে ছিন্ন ভিন্ন করো আমাকে..."
এই পংক্তিগুলোর মাধ্যমে তিনি মূলত বৈশ্বিক শক্তির আধিপত্য এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা অপশক্তিগুলোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তিনি তার রক্ত-মাংস বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করেননি, কিন্তু দেশের সম্মান কোনো অপশক্তির কাছে বিকিয়ে দিতে চাননি।
আর্থসামাজিক সংকট ও শরীফ ওসমান হাদির কবিতা
হাদি ভাইয়ের লেখনীতে কেবল রাজনৈতিক দ্রোহ নয়, বরং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংগ্রামের চিত্রও সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। শরীফ ওসমান হাদির কবিতা পাঠ করলে আমরা দেখতে পাই মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠার এক রূঢ় বাস্তবতা। তিনি তথাকথিত ‘উন্নয়ন’ এবং এর আড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসা ঋণের বোঝাকে চরমভাবে কটাক্ষ করেছেন। তিনি লিখেছিলেন— "(আমার রক্তরসে শুধু আজ সহায়ত্ব আর অভাব, কাগজের কামলারা তাকে আদর করে নাম দিয়েছে মুদ্রাস্ফীতি..) হাদি ভাইয়ের লেখনীতে উঠে এসেছে এক করুণ হাহাকার। তিনি কবিতায় উল্লেখ করেছেন যে, তার শরীরের প্রতিটি রক্তকণিকায় এখন কেবল সহায়হীনতা আর বঞ্চনার আর্তনাদ। অর্থনীতির পরিভাষায় যেটিকে চতুর ‘কাগজের কামলারা’ সযত্নে ‘মুদ্রাস্ফীতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে, সেটি আসলে সাধারণ মানুষের বুকের দীর্ঘশ্বাস। ঋণের চাপে তার অস্তিত্ব আজ নীল হয়ে যাচ্ছে, যা তথাকথিত উন্নয়নের অন্তরালে এক ধিক্কার।."
দেশের অর্থনীতি যখন মুদ্রাস্ফীতির কশাঘাতে জর্জরিত, তখন একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ উন্নয়নের মিথ্যা মমি বানিয়ে রাজ্য শাসন করছিল। শরীফ ওসমান হাদির কবিতা আমাদের স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, বাজারে যখন সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস পড়ে, তখন রাজার মন খারাপ হওয়া সমবেদনা নয়, বরং গদি হারানোর শঙ্কা মাত্র। এই সত্য উচ্চারণ করার অদম্য সাহসই তাকে আজ জাতীয় বীরের মর্যাদা দিয়েছে।
বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব বনাম শরীফ ওসমান হাদির কবিতা
শরীফ ওসমান হাদির দর্শনের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক ছিল তার বুদ্ধিবৃত্তিক সচেতনতা। শরীফ ওসমান হাদির কবিতা এর শেষ লাইনে তিনি এক ভয়াবহ অথচ বাস্তব সতর্কবার্তা দিয়ে গেছেন। তিনি খুনিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তারা যেন তার শরীরের অন্য অংশ ছিঁড়ে খায় কিন্তু ‘মস্তিষ্ক’ যেন স্পর্শ না করে। তিনি লিখেছিলেন— "(দল-বেঁধে-হামলে -পড়ো -আমার -বুকে, আমার-রান, থ্রান, চক্ষু, কলিজা-আজ-সব-তোমাদের-গনিমতের-মাল... কিন্তু দোহাই-তোমার-মস্তিষ্কটা-খেও-না, তাহলে-শীঘ্রই-দাস-হয়ে-যাবে-তোমরা।) হাদি ভাইয়ের সেই কালজয়ী সতর্কবার্তা আজও আমাদের কানে বাজে। তিনি তার ঘাতকদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন—তারা চাইলে তার দেহকে ছিন্নভিন্ন করে ‘গনিমতের মাল’ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, তার কলিজা বা চক্ষু খুবলে নিতে পারে। কিন্তু তিনি একটি বিনীত মিনতি রেখেছিলেন, তা হলো—"আমার মস্তিষ্কটা খেও না"। কারণ তিনি জানতেন, চিন্তার স্বাধীনতা যদি একবার খুনিদের দখলে চলে যায়, তবে পুরো জাতি শীঘ্রই দাসে পরিণত হবে।"
কী নিদারুণ নিয়তি! খুনিরা তাকে মাথায় গুলি করেই হত্যা করেছে। বক্তারা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, খুনিরা হাদি ভাইয়ের মস্তিষ্ককে তথা তার চিন্তাধারাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পেত। তারা ভেবেছিল মাথায় গুলি করলে তার আদর্শ স্তব্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে, সেই গুলির মাধ্যমে তারা নিজেদের আজীবনের জন্য দাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে আর হাদি ভাইকে বানিয়েছে মুক্ত মানুষের চিরকালীন প্রেরণা।
শহীদদের প্রেরণা ও শরীফ ওসমান হাদির কবিতা
শরীফ ওসমান হাদির এই আত্মত্যাগ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি শুরু হয়েছিল শহীদ আবরার ফাহাদের সেই অসম লড়াই থেকে, যিনি দেশের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে অকাতরে প্রাণ দিয়েছিলেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে হাদি ভাই এবং জুলাই বিপ্লবের সেই ২০০০ শহীদ আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করাই হলো প্রকৃত বেঁচে থাকা। শরীফ ওসমান হাদির কবিতা ও তার রক্ত আজ নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
যারা বারবার আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, যারা আধিপত্যবাদের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যে দেশপ্রেমিক জনতা আজ ঐক্যবদ্ধ। বক্তারা শপথ নিয়ে বলেন, "আমরা হাদি ভাইয়ের আদর্শকে আমাদের বুকে লালন করব। আধিপত্যের বিরুদ্ধে হাদি ভাইয়ের সংগ্রাম বৃথা যেতে দেব না।"
শেষ কথা: শরীফ ওসমান হাদির কবিতা ও আগামীর শপথ
অনুষ্ঠানে ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’ সংগঠনের উদ্যোক্তাদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বক্তারা বলেন, নারী সমাজ যেভাবে রাজপথে নেমে এসে এই বিপ্লবকে সচল রেখেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। একটি বৈষম্যহীন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, শরীফ ওসমান হাদির কবিতা কেবল কতগুলো শব্দের সমাহার নয়, এটি একটি জাতির জাগরণের মন্ত্র। তার সেই অমর সতর্কবাণী—"মস্তিষ্কটা খেও না, তাহলে শীঘ্রই দাস হয়ে যাবে"—আমাদের প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয় যে, চিন্তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হলো প্রকৃত মুক্তি। হাদি ভাই, আবরার ফাহাদ এবং সকল শহীদের রক্তঋণ পরিশোধ করতে নতুন প্রজন্ম আজ বদ্ধপরিকর। আধিপত্যবাদ রুখে দিয়ে একটি মাথা উঁচু করা সুন্দর বাংলাদেশ গড়াই হোক আজকের দিনের প্রধান অঙ্গীকার।
আপনি যদি ওসমান হাতির কবিতাটি আবৃত্তি শুনতে চান তাহলে নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন,(সৌজন্যে: Daily Sangram):
Comments
Post a Comment