 |
| সংস্কারের মাধ্যমে আস্থার সংকটে উত্তরণ ও আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার |
আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার, যা দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে এখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হচ্ছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে বাজার মূলধনের বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং লেনদেনের ধরনে নতুন মেরুকরণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশের অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আসতে শুরু করেছে। যদিও সূচক কিছুটা নিম্নমুখী ছিল, তবে বাজার মূলধন বৃদ্ধি পাওয়া এবং ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় এখন আক্ষরিক অর্থেই আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার।
বাজার মূলধন বৃদ্ধিতে যেভাবে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বা দশমিক ১৮ শতাংশ। বাজার মূলধনের এই উল্লম্ফন প্রমাণ করে যে, বিনিয়োগকারীরা এখন বড় ও স্থিতিশীল কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। যখন বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর স্থিতিশীল থাকে বা বৃদ্ধি পায়, তখনই বাজার মূলধন বাড়ে। এই প্রক্রিয়াটি বাজারের গভীরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় এবং সব মিলিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ সবসময়ই রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে, তা পূর্ণতা পাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলীর মতে, নির্বাচনের পর দেশের পুঁজিবাজারের চিত্র আমূল বদলে যেতে পারে। তিনি মনে করেন, যখন একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলত দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত ধারাবাহিকতা খোঁজেন। একটি স্থিতিশীল সরকারের সময় বিনিয়োগ নিরাপদ থাকে, আর এই বাস্তবতায় আগামী দিনগুলোতে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা এমন একটি পরিবেশের অপেক্ষায় আছেন, যেখানে তাদের পুঁজি সুরক্ষিত থাকবে এবং বাজার তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।
বিএসইসি-র সংস্কারে কি আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার?
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-র বর্তমান নেতৃত্ব বাজার সংস্কারে কঠোর ভূমিকা পালন করছে। খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, কমিশনের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা। কারসাজি রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং অযোগ্য কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুত করার মতো সাহসী সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য কল্যাণকর। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বর্তমানের পতন আসলে একটি ‘শুদ্ধি অভিযান’, যা শেষে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে। এই সংস্কার কার্যক্রমের সফল সমাপ্তি ঘটলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মাঝেও বিশ্বাস ফিরবে, যা সব মিলিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলকে।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের চোখে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার
বাজারের বর্তমান অবস্থাকে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার সংগ্রহের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বর্তমানে ৪ হাজার ৯৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। যদিও সূচক আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে, কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে এটি একটি ‘বটম লেভেল’ বা সর্বনিম্ন পর্যায়। এখান থেকে সূচক আর বেশি নিচে নামার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বরং কম দামে ভালো কোম্পানির শেয়ার কেনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্মার্ট বিনিয়োগকারীরা বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়লে লেনদেনও দ্রুত ৫ হাজার কোটি টাকার ঘরে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই মূলত আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার কে।
সিএসই ও এসএমই খাতের প্রবৃদ্ধিতে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার
শুধুমাত্র ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নয়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। গত সপ্তাহে সিএসইর এসএমই ইনডেক্স (এসইএসএমইএক্স) ০.২৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের এই প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৫টির দর বেড়েছে। যদিও সার্বিক লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কম, তবে এসএমই খাতের এই ইতিবাচক ধারা সামগ্রিকভাবে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা যখন পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে সফল হন, তখন দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয়।
লেনদেনের চিত্রে পরিবর্তন ও আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৯০০ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যদিও এটি আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম, তবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো—বিনিয়োগকারীরা এখন বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করছেন। অন্ধভাবে কোনো শেয়ার না কিনে তারা মৌলভিত্তি সম্পন্ন এবং ভালো লভ্যাংশ দেয় এমন কোম্পানির দিকে ঝুঁকছেন। বিনিয়োগকারীদের এই সচেতনতা বাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৩টির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বলছে যে, বাজার এখন একটি স্থিতিশীল মোড়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার।
সামষ্টিক অর্থনীতির প্রভাব ও আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতা পুঁজিবাজারে পরোক্ষভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাতে উদ্যোক্তারা নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছেন। শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ও মুনাফা বাড়বে। যখন কোম্পানির মুনাফা বাড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই শেয়ার দর বৃদ্ধি পায় এবং লভ্যাংশের পরিমাণও বাড়ে। এই চক্রটিই মূলত আগামী দিনের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার কে।
আগামীর সমৃদ্ধিতে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার হলো দেশের অর্থনীতির দর্পণ। বর্তমান সরকার এবং বিএসইসি যদি তাদের সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী বাজার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আস্থার যে সংকটটি দীর্ঘকাল ধরে ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরা প্রয়োজন। বাজার যখন ঘুরে দাঁড়াবে, তখন এখনকার এই নিচু দামের শেয়ারগুলোই বিশাল মুনাফা দেবে। বড় বিনিয়োগকারী ও বিদেশি ফান্ডের আগমনের অপেক্ষায় থাকা এই বাজারটি এখন নতুন মোড় নিতে প্রস্তুত। সব মিলিয়ে বলা যায়, অন্ধকারের মেঘ কেটে গিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে আমাদের অর্থনীতি এবং উন্নয়নের নতুন সোপানে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার।
বাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও তথ্যাবলী:
সাপ্তাহিক বাজার মূলধন বৃদ্ধি: ১,২৬০ কোটি টাকা (ডিএসই)।
ডিএসই শরিয়াহ সূচক: ১,৯১২ পয়েন্টে অবস্থান।
সিএসই বাজার মূলধন: ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা।
পজিটিভ মুভমেন্ট: সিএসই এসএমই ইনডেক্স ০.২৫% বৃদ্ধি।
পরিশেষে, বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ হলো—আবেগের বশবর্তী হয়ে বা গুজবে কান দিয়ে শেয়ার কেনাবেচা না করে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ও মৌলভিত্তি যাচাই করা। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ। নীতিনির্ধারকদের সঠিক পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে, এই বাজারই হবে আগামী দিনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে এখন নতুন এক সম্ভাবনার দিকে ধাবিত হচ্ছে দেশ এবং প্রতিটি পদক্ষেপে আশার আলো দেখাচ্ছে পুঁজিবাজার।
Comments
Post a Comment