 |
| ওমরাহ পালনের পথে জেদ্দা মেট্রো রেল স্টেশনে স্নিগ্ধ রূপে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। |
বিনোদন ডেস্ক | ঢাকা
চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টক অব দ্য টাউন। ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা, যিনি তার অভিনয় এবং রূপের জাদুতে দীর্ঘ দুই দশক ধরে দর্শকদের মোহাবিষ্ট করে রেখেছেন, তিনি এবার বেছে নিয়েছেন এক ভিন্ন পথ। রূপালি পর্দার ঝলকানি আর গ্ল্যামারের ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন পবিত্র মক্কা ও মদিনায়। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা তার ওমরাহ যাত্রার ছবিগুলো নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন এর মাধ্যমে মূলত তার আধ্যাত্মিক সত্তার এক নতুন রূপ ফুটে উঠেছে। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক হ্যান্ডেলে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ছবিগুলোতে তাকে মদিনার পথে জেদ্দা মেট্রো রেলস্টেশনে দেখা গেছে। আধুনিক সৌদি আরবের অন্যতম দ্রুতগামী এই যানে বসে যখন তিনি মদিনার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তার চোখেমুখে ছিল এক প্রশান্তির ছাপ। ছবিগুলো প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার ভক্ত তাদের প্রিয় নায়িকাকে নতুন সাজে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
পবিত্র ভূমিতে নতুন সাজে পূর্ণিমা
প্রকাশিত ছবিগুলোতে পূর্ণিমাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবয়বে দেখা গেছে। সচরাচর সিনেমার পর্দায় তাকে ফ্যাশনেবল পোশাকে দেখা গেলেও, এই আধ্যাত্মিক সফরে তিনি নিজেকে আবৃত করেছেন ধর্মীয় পোশাকে। কালো রঙের একটি চমৎকার ‘আবায়া’ ডিজাইনের বোরকা এবং মাথায় সাদা হিজাব পরে তিনি যখন ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন, তখন তাকে অতি সাধারণ অথচ স্নিগ্ধ দেখাচ্ছিল। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন এর এই বিশেষ মুহূর্তগুলো দেখে ভক্তরা বলছেন, সাদামাটা পোশাকেও পূর্ণিমা যেন অনন্য।
ছবির ক্যাপশনে অভিনেত্রী তার মনের গভীর অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন অত্যন্ত সংক্ষেপে। তিনি লিখেছেন, ‘সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ।’ এই একটি বাক্যের মাধ্যমেই তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি তার কৃতজ্ঞতা ও আত্মসমর্পণের বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। পাশাপাশি হ্যাশট্যাগ হিসেবে যুক্ত করেছেন পূর্ণিমা, ওমরাহ ২০২৬ এবং আবায়া স্টাইল। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন উপলক্ষে তার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ ক্যাপশনটি ভক্তদের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দোয়ার বন্যা
বছরের শুরুতেই চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন এর সংবাদটি তার ভক্তদের জন্য ছিল একটি বড় সারপ্রাইজ। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে হাজার হাজার নেটিজেন তাদের ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়েছেন। অনেক ভক্ত তার ওমরাহ কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, “আপু আপনাকে এই পোশাকে খুব মানিয়েছে, আল্লাহ আপনার ইবাদত কবুল করুন।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “আপনার এই রূপ আমাদের মনে শান্তি এনে দিয়েছে।” মূলত একজন সেলিব্রিটির এমন ধর্মীয় পদচারণা সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
এর আগেও কালো বোরকা পরে মদিনার মসজিদে নববীর সামনে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন তিনি। সেখানেও ভক্তদের ভালোবাসা ও শুভকামনায় সিক্ত হন এই চিত্রনায়িকা। তবে এবারের সফরটি যেন আরও বেশি বিশেষ হয়ে উঠেছে বছরের শুরুর দিক বলে।
গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতা
চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন বিষয়ে পূর্ণিমা নিজে বিস্তারিত কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেননি। তবে বিভিন্ন সূত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি তার স্বামী আশফাকুর রহমান রবিনের সঙ্গে মদিনা সফর ও ওমরাহ পালন করছেন। পূর্ণিমা বরাবরই তার ব্যক্তিগত জীবনকে কিছুটা আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। তার এই ওমরাহ সফরটিও তিনি আড়ম্বরহীনভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছেন। তবুও ভক্তদের কৌতূহলী চোখ ঠিকই খুঁজে নিয়েছে প্রিয় নায়িকার আধ্যাত্মিক যাত্রার গল্প।
বর্ণিল ক্যারিয়ার ও আধ্যাত্মিক জীবনের মেলবন্ধন
দিলারা হানিফ পূর্ণিমা নব্বই দশকের শেষভাগ থেকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের নির্ভরযোগ্য এক নাম। তার অভিনয় দক্ষতা তাকে এনে দিয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’ বা ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’র মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শক আজও মনে রেখেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নিজেকে কেবল একজন অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, বরং একজন সফল উপস্থাপক এবং মডেল হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে ক্যারিয়ারের এই তুঙ্গে থাকা অবস্থায় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন প্রমাণ করে যে, জীবনের প্রকৃত প্রশান্তি ইবাদতের মাঝেই নিহিত।
বর্তমান সময়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সাফল্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, সেখানে পূর্ণিমার এই শান্ত ও ধীরস্থির পদচারণা ভিন্নতা তৈরি করেছে। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেও শেকড় বা সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন তাই শুধু একটি ধর্মীয় সফর নয়, বরং এটি তার জীবন দর্শনের এক প্রতিচ্ছবি।
ওমরাহ পালনের গুরুত্ব ও সেলিব্রিটিদের প্রভাব
মুসলিম সমাজে ওমরাহ পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি আত্মশুদ্ধির একটি মাধ্যম। শোবিজ জগতের মানুষেরা যখন এমন পবিত্র কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেন, তখন তা তাদের বিশাল ফ্যান বেজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন এর খবরটি দেখার পর অনেক সাধারণ মানুষও ধর্মীয় অনুশাসনে উৎসাহিত হচ্ছেন। মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা এবং সেখানে ইবাদতের মাহাত্ম্য পূর্ণিমার ছবিগুলোর মাধ্যমে যেন আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
জেদ্দা থেকে মদিনা যাওয়ার মেট্রো ট্রেনের ভেতরে পূর্ণিমার সেই স্নিগ্ধ চাহনি ভক্তদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের সব প্রাপ্তি শেষে মহান আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হয়। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন এর মাধ্যমে তিনি যেন সেই চিরন্তন সত্যটিই আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিলেন।
নতুন বছরে শুভ সূচনা
২০২৫ সালকে স্বাগত জানানোর জন্য অনেকেই নানা আয়োজন করেন। কিন্তু পূর্ণিমা বেছে নিয়েছেন মক্কার কাবা শরীফ তাওয়াফ করা এবং মদিনার মসজিদে নববীতে সময় কাটানোকে। বছরের এই শুভ সূচনা তার ভক্তদের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন এর ছবিগুলো কেবল সুন্দর ছবির সংগ্রহ নয়, বরং এতে লুকিয়ে আছে তার বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক তৃপ্তির গল্প।
অনেকে মনে করছেন, ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে পূর্ণিমা আবার নতুন শক্তিতে তার অভিনয় জীবনে ফিরবেন। তবে এই মুহূর্তে তিনি মদিনার স্নিগ্ধ ছায়ায় নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন বিষয়ক এই প্রতিবেদনটি তৈরির সময় পর্যন্ত তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
ভক্তদের প্রত্যাশা ও আগামীর পথচলা
পূর্ণিমার ভক্তরা সবসময়ই তাকে ইতিবাচক চরিত্রে এবং সুন্দর রূপে দেখতে পছন্দ করেন। তার এই ধর্মীয় সফরের ছবিগুলো দেখে সাধারণ পাঠকরাও ভীষণ আনন্দিত। এই সফরের পর পূর্ণিমার জীবন এবং চিন্তাধারায় কোনো আমূল পরিবর্তন আসবে কিনা, তা সময় বলে দেবে। তবে আপাতত চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ওমরাহ পালন এর প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন তার কোটি কোটি অনুসারী।
সমাপ্তিতে বলা যায়, খ্যাতি আর গ্ল্যামার মানুষের বাহ্যিক রূপকে উজ্জ্বল করলেও, আত্মিক প্রশান্তি আসে বিশ্বাস আর কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। পূর্ণিমার এই যাত্রায় সেই প্রশান্তি ফুটে উঠেছে বারবার। ওমরাহ শেষে তিনি যখন দেশে ফিরবেন, তখন হয়তো ভক্তরা খুঁজে পাবেন এক অন্য পূর্ণিমাকে—যিনি কেবল অভিনয়ের আলোতেই উজ্জ্বল নন, বরং বিশ্বাসের আলোতেও আলোকিত।
Comments
Post a Comment