S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ: কেন বারবার ভাঙছে সংসার?

January 17, 2026

 

ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
গ্ল্যামারের আড়ালে ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের নেপথ্য গল্প।

ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। রুপালি পর্দার রঙিন আলোয় যাঁদের জীবন আমাদের কাছে রূপকথার মতো মনে হয়, পর্দার আড়ালে তাঁদের জীবনের গল্পটা অনেক সময় বেশ ধূসর আর বিষণ্ণ। ভক্তরা তাঁদের প্রিয় তারকাদের জুটিতে যতটা ভালোবাসা খুঁজে পান, বাস্তবে সেই সম্পর্কের ভাঙন ততটাই আহত করে তাঁদের। গ্ল্যামার আর খ্যাতির আড়ালে ঠিক কী কারণে তাঁদের সাজানো সংসারগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, তা নিয়ে বিনোদন দুনিয়ায় নানা গুঞ্জন ভেসে বেড়ায়। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তুলে ধরব দেশের শীর্ষ কয়েকজন জনপ্রিয় তারকার জীবনের অপ্রিয় সেই সত্যগুলো।

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস: ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ অনুসন্ধানে শীর্ষে

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবথেকে আলোচিত ও প্রভাবশালী জুটি ছিলেন শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। তাঁদের পর্দার রসায়ন যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করত, তেমনি তাঁদের বাস্তব জীবনের বিয়ে এবং পরবর্তী সময়ে বিচ্ছেদ ছিল টক অফ দ্য কান্ট্রি। ২০০৮ সালে তাঁরা গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। দীর্ঘ নয় বছর পর ২০১৭ সালে অপু বিশ্বাস যখন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সন্তান কোলে নিয়ে লাইভে এসে নিজেদের বিয়ের কথা প্রকাশ করেন, তখনই সম্পর্কের অবনতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, শাকিব ও অপুর বিচ্ছেদের নেপথ্যে মূল বিষয় ছিল গোপনীয়তা এবং একে অপরের প্রতি আস্থার অভাব। শাকিব খান চেয়েছিলেন বিয়ের বিষয়টি আরও কিছুদিন গোপন থাকুক, কিন্তু অপু বিশ্বাস তাঁর সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হঠাৎ করে জনসমক্ষে চলে আসেন। শাকিবের মতে, এটি ছিল তাঁর প্রতিশ্রুতির অবমাননা। অন্যদিকে, অপু বিশ্বাস চেয়েছিলেন নিজের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার আদায় করতে। এই যে মতের অমিল এবং একে অপরের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা না জানানো, এটাই এক সময় তাঁদের বিচ্ছেদ পর্যন্ত নিয়ে যায়। দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, অপু বিশ্বাসের ক্যারিয়ারে ফিরে আসার চেষ্টা এবং শাকিবের কিছু শর্ত মেনে না নেওয়াই ছিল তাঁদের বিচ্ছেদের প্রধান অনুঘটক।

রাজ ও পরীমনির সংসারে অশান্তি: ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ যা ছিল

২০২১ সালে ‘গুণিন’ সিনেমার শুটিং সেটে একে অপরের প্রেমে পড়েন শরিফুল রাজ ও পরীমনি। এরপর ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর তড়িঘড়ি করে তাঁরা বিয়ে করেন। ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ-পরীর ঘরে আসে তাঁদের প্রথম সন্তান ‘রাজ্য’। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের রোমান্টিক ভিডিও আর ছবি দেখে সবাই ভেবেছিলেন এই জুটি হয়তো দীর্ঘস্থায়ী হবে। কিন্তু বছর না পেরোতেই তাঁদের সম্পর্কের ফাটলগুলো বড় হয়ে দেখা দেয়।

পরীমনি নিজেই সেই সময় ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয় তাঁর ডিভোর্স লেটারে উল্লেখ করেছিলেন। সেগুলো হলো—মনের অমিল, বনিবনা না হওয়া, খোঁজ-খবর না নেওয়া এবং দীর্ঘদিনের মানসিক অশান্তি। মূলত রাজের জীবনযাপন পদ্ধতি এবং মিডিয়া পাড়ায় কিছু বিতর্কিত ভিডিও ফাঁসের ঘটনা তাঁদের সম্পর্কে চরম তিক্ততা তৈরি করেছিল। রাজের উদাসীনতা এবং পরীমনির প্রত্যাশা—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয় এই জুটির পথ আলাদা হয়ে যায়।

পূর্ণিমার দীর্ঘ দাম্পত্যের ইতি: ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ ও বাস্তবতা

চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা সবসময়ই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইট থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। ২০০৭ সালে তিনি আহমেদ জামাল ফাহাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ১২ বছর সংসার করার পর তাঁদের বিচ্ছেদ হয়, যা প্রকাশ পায় ২০২২ সালে। মজার বিষয় হলো, বিচ্ছেদের তিন বছর পর ভক্তরা জানতে পারেন যে পূর্ণিমা আর ফাহাদ একসঙ্গে থাকছেন না।

এই জুটির ক্ষেত্রে ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে মূলত ‘বোঝাপড়ার অভাব’ সামনে আসে। পূর্ণিমা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি দীর্ঘ ১২ বছর অনেক চেষ্টা করেছিলেন সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু যেখানে মনের মিল বা পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকে না, সেখানে কেবল সময়ের খাতিরে এক ছাদের নিচে থাকা সম্ভব নয়। কোনো বিশেষ বড় কোনো ঝগড়া বা কেলেঙ্কারি না থাকলেও, দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা মানসিক দূরত্বই ছিল এই বিচ্ছেদের প্রধান কারণ।

আরিফিন শুভর বিচ্ছেদ: পর্দার বাইরে ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ

জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ এবং কলকাতার মেয়ে অর্পিতা সমাদ্দার ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন ২০১৫ সালে। তাঁদের দাম্পত্য জীবন প্রায় সাড়ে নয় বছর স্থায়ী ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুভ যখন হঠাৎ করে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন, তখন ভক্তদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শুভর এই ঘোষণাটি মূলত ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে মানসিক দূরত্বকে দায়ী করে। তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন যে, তাঁরা জীবনসঙ্গী হিসেবে সফল না হলেও একে অপরের বন্ধু হিসেবে থাকবেন। মিডিয়া পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে যে, ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিগত আদর্শের পার্থক্যের কারণে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে এক ধরনের শীতল সম্পর্ক চলছিল। তাঁরা দুজনই চেয়েছিলেন নিজেদের সম্মান বজায় রেখে আলাদা হতে। শুভর বিচ্ছেদ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, দীর্ঘ বছরের প্রেম বা সংসারও অনেক সময় মানসিক তৃপ্তি দিতে ব্যর্থ হতে পারে।

এস আই টুটুল ও তানিয়া: আদর্শ জুটির আড়ালে ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ

সংগীতশিল্পী এস আই টুটুল এবং অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদকে একসময় শোবিজের ‘পাওয়ার কাপল’ বলা হতো। ২৩ বছরের দীর্ঘ সংসার জীবনের ইতি ঘটার খবরটি ভক্তদের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০২১ সালে তাঁদের অফিশিয়াল ডিভোর্স সম্পন্ন হয়, যা তানিয়া আহমেদ নিজেই প্রকাশ্যে আনেন।

তানিয়ার মতে, তাঁদের বিচ্ছেদের মূল কারণ ছিল আবেগের অগভীরতা। তিনি জানিয়েছিলেন যে, তাঁর দীর্ঘদিনের ভালোবাসা টুটুল হয়তো কখনোই অনুভব করতে পারেননি। এই যে আবেগের অপূর্ণতা এবং একে অপরের মনের ভাষা বুঝতে না পারা, এটাই ধীরে ধীরে তাঁদের আলাদা করে দেয়। অন্যদিকে টুটুল জানিয়েছিলেন, তিনি কখনো আলাদা হতে চাননি, বরং তানিয়ার ইচ্ছাকে সম্মান জানাতেই বিচ্ছেদে সায় দিয়েছেন। এই জুটির ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, দাম্পত্যে কেবল টিকে থাকাই বড় কথা নয়, মনের সংযোগ থাকাটাও জরুরি।

কেন বারবার উঠে আসে ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ?

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে বর্তমানে বিচ্ছেদের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে কয়েকটি সাধারণ বিষয় সবসময় কাজ করে। প্রথমত, গ্ল্যামার দুনিয়ার প্রচণ্ড ব্যস্ততা। তারকারা ব্যক্তিগত সময়ের চেয়ে কাজের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করেন, যার ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, ইগো বা অহমিকা। দুই তারকা যখন একই ছাদের নিচে থাকেন, তখন তাঁদের মধ্যে ক্যারিয়ার নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হতে পারে।

তৃতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব। এখনকার দিনে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন আর ব্যক্তিগত থাকছে না। সামান্য খুনসুটি বা ঝগড়া যখন জনসমক্ষে আসে, তখন বাইরের মানুষের কাটাছেঁড়া সেই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। এছাড়া বিশ্বাসের অভাব এবং পরকীয়া বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির অনুপ্রবেশের গুঞ্জন তো রয়েছেই। তবে প্রতিটি বিচ্ছেদের পেছনেই থাকে এক গভীর ব্যক্তিগত ক্ষত, যা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়।

পর্দার উপরে আমরা যে ঝলমলে দৃশ্য দেখি, তার পেছনের অন্ধকার গলিপথগুলো বড়ই কঠিন। ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ যা-ই হোক না কেন, দিনশেষে তাঁরাও রক্ত-মাংসের মানুষ। তাঁদেরও কষ্ট হয়, তাঁদেরও অভিমান থাকে। কোনো বিচ্ছেদই কাম্য নয়, কিন্তু যেখানে শান্তি নেই সেখানে বিচ্ছেদই হয়তো একমাত্র মুক্তির পথ। আমরা শুধু আশা করতে পারি যে, আগামী দিনে তারকাদের দাম্পত্য জীবন আরও সুখের ও স্থায়ী হবে।

এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা ঢাকাই তারকাদের বিচ্ছেদের কারণ এবং তাঁদের জীবনের অপ্রিয় কিছু সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জীবন নদীর স্রোতের মতো, কখনো স্থির আবার কখনো অশান্ত। সম্পর্কের ভাঙা-গড়ার খেলায় তারকারাও মাঝেমধ্যে দিশেহারা হয়ে পড়েন, কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন নিয়েই তাঁরা এগিয়ে চলেন তাঁদের পরবর্তী গন্তব্যে। ভক্ত হিসেবে আমাদের কাম্য হোক তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সুন্দর সমন্বয়।

Comments