S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস: হাদি হত্যার বিচার কি হবে?

January 14, 2026

 

শহীদ ওসমান হাদির ছবি এবং হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে প্রতিবেদন।
স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস।

হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের এক নতুন ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা ও তার আকস্মিক চলে যাওয়া এখনো সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে রেখেছে। সেই ক্ষতের ওপর যেন নতুন করে লবণের ছিটা হয়ে দেখা দিয়েছে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে সম্প্রতি একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে দেওয়া এই স্ট্যাটাসটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস ও বিচারের আকুতি

শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিচারের আশায় প্রহর গুনছেন। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, বিচার পাওয়ার আশা যেন ততটাই ফিকে হয়ে আসছে। এই নিরাশা থেকেই হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস-এ প্রথম প্রশ্নটি ছিল, ‘ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে?’ এই একটি প্রশ্নের ভেতরে লুকিয়ে আছে একজন স্বজন হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস এবং রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার প্রতি চরম হাহাকার।

রাবেয়া ইসলাম সম্পা তার লেখায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন যে, বিচার হবে না—এই শব্দটিকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, যেকোনো মূল্যে এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি এক গভীর সত্য উচ্চারণ করেছেন। তার মতে, যদি আজ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হয়, তবে ভবিষ্যতে এই দেশে আর কোনো বিপ্লবী বীর জন্মাবে না। বিপ্লবীরা যখন দেখে যে তাদের আত্মত্যাগের কোনো মূল্যায়ন নেই এবং তাদের হত্যাকারীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন নতুন কোনো আন্দোলন বা পরিবর্তনের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়। তাই ওসমান হাদির বিচার পাওয়া কেবল একটি পরিবারের দাবি নয়, বরং এটি পুরো জাতির নৈতিক দায়বদ্ধতা।

ইনকিলাব মঞ্চের নীরবতা ও হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

ওসমান হাদির হাতে গড়া সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নিয়ে জনমনে যেমন কৌতূহল আছে, তেমনি সম্পার মনেও রয়েছে একরাশ বিস্ময়। হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস-এ তিনি আশ্চর্যের সুরে প্রশ্ন তুলেছেন—কেন ইনকিলাব মঞ্চ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে কোনো নতুন কর্মসূচির ডাক দিচ্ছে না? যে সংগঠনটিকে হাদি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন, সেই সংগঠনের নীরবতা তাকে ব্যথিত করেছে।

হাদি বেঁচে থাকতে প্রায়ই বলতেন, “আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ, দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস।” এই কথাগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায়, তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনের চেয়েও এই সংগঠনটিকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। সম্পা তার স্ট্যাটাসে হাদির একটি উক্তি তুলে ধরেছেন, যেখানে হাদি বলেছিলেন যে তার সংগঠনের কর্মীরা অত্যন্ত নিঃস্বার্থ। তারা কোনো বেতন পায় না, ঠিকমতো খাবারও জোটে না অনেক সময়, কিন্তু তারা হাদির সাথে ছায়ার মতো লেগে থাকত। হাদি সবসময় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। আজ সেই সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো প্রতিবাদ না আসাটা সম্পার কাছে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সহজ কথার কঠিন বাস্তবতা ও হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

ওসমান হাদি তার এক জনসভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতাংশ উদ্ধৃত করেছিলেন— “সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।” এই চরণের সূত্র ধরে হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস-এ সম্পা বলতে চেয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো অনেক জটিল। কেন বিচার হচ্ছে না বা কেন সব কিছু থমকে আছে, তার পেছনে অনেক ব্যাখ্যা থাকতে পারে। কিন্তু তিনি কোনো তর্কে জড়াতে চান না।

তিনি শুধু হাদির সেই বাণীটি সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন যে—মুমিনের জীবন মানেই লড়াই ও সংগ্রাম। আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ। হাদি জানতেন যে সত্যের পথে চলা সহজ নয় এবং এই পথ কণ্টকাকীর্ণ। তাই সম্পা তার স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সকল বিপ্লবী ভাই-বোনদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা হাল ছেড়ে না দেয়। সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়াই হলো হাদির আদর্শের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

ভাই-বোনদের মনের অবস্থা ও হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

যারা ওসমান হাদিকে সরাসরি দেখেননি, কেবল ভিডিওতে তার জ্বালাময়ী বক্তব্য শুনেছেন বা তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তারাও আজ হাদির জন্য অশ্রুপাত করছেন। কিন্তু হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস-এর একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সেইসব কর্মীদের কথা, যারা দিন-রাত হাদির সাথে থাকত। সম্পা লিখেছেন, যারা হাদিকে ২৪ ঘণ্টা ছায়ার মতো পাশে পেত, সেই ভাই-বোনগুলোর মনের অবস্থা এখন কতটা শোচনীয়, তা কল্পনা করাও কঠিন।

হাদি তার কর্মীদের পরিবারের সদস্যের মতো আগলে রাখতেন। সম্পার মতে, হাদি যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে হয়তো নিজের জন্য কোনো প্রচার চাইতেন না, বরং তার ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের মঙ্গলের কথাই ভাবতেন। কর্মীদের প্রতি হাদির এই ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা আজ সম্পাকে বারবার আবেগপ্রবণ করে তুলছে। তিনি চান, হাদির সেই ‘নিঃস্বার্থ’ ভাই-বোনেরা যেন একতাবদ্ধ হয়ে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথ কাঁপিয়ে দেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে তোলপাড়

গত বুধবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই স্ট্যাটাসটি। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে মানুষ এটি শেয়ার করে নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন। গুগলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সার্চ করলে দেখা যাচ্ছে যে, হাজার হাজার মানুষ ‘ওসমান হাদি হত্যা বিচার’ এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি’ লিখে সার্চ করছেন।

হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস এখন আর কেবল একটি সাধারণ পোস্ট নয়, এটি একটি অনলাইন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সম্পা যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন তা অত্যন্ত যৌক্তিক। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরনের আল্টিমেটাম না আসাটা জনমনেও সন্দেহের দানা বাঁধছে। অনেকে মন্তব্য করছেন যে, ওসমান হাদির মতো একজন দেশপ্রেমিক ও বিপ্লবী নেতার রক্ত কি এভাবেই অনর্থক হয়ে যাবে? প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি না দেখা যাওয়ায় ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

আদর্শের লড়াই ও আগামীর পথ

রাবেয়া ইসলাম সম্পা তার লেখনীর মাধ্যমে এটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তিনি লড়াই থেকে পিছিয়ে যাওয়ার মানুষ নন। তার এই হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস-টি মূলত সকল বিপ্লবী আত্মার জন্য একটি জাগরণী বার্তা। তিনি বিশ্বাস করেন যে, হাদি যে সংগ্রামের বীজ বপন করে গেছেন, তা কখনো মুছে যাবে না। তবে এই সংগ্রামকে সফল করতে হলে বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়া জরুরি।

তিনি মনে করেন, হাদি হত্যার বিচার হওয়া মানে কেবল একজন অপরাধীর শাস্তি হওয়া নয়, বরং এটি বাংলাদেশে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করা। যদি ওসমান হাদিরা বিচার না পায়, তবে আগামীর তরুণ প্রজন্ম অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পাবে। তাই হাদির স্ত্রীকে একা নয়, বরং সাধারণ জনগণ ও ইনকিলাব মঞ্চের সকল কর্মীকে এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে হবে।

শেষ কথা যখন প্রতিবাদের ভাষা

পরিশেষে বলা যায়, হাদির স্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস সমাজের প্রতিটি স্তরে এক গভীর নাড়া দিয়েছে। হাদি যে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন, সেই লড়াই আজ তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী এবং অগণিত অনুসারীদের কাঁধে এসে পড়েছে। বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে ন্যায়বিচারকে অস্বীকার করা। ওসমান হাদির পরিবার ও দেশের শান্তিকামী মানুষ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা করছেন—কবে হাদির খুনিরা কাঠগড়ায় দাঁড়াবে এবং কবে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের নেতার রক্তঋণ শোধ করতে রাজপথে নামবে।

শহীদ ওসমান হাদির কথাগুলো আজও বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়— "আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ।" সেই দীর্ঘ লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে ধৈর্য, সাহস এবং নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। রাবেয়া ইসলাম সম্পার এই সাহসী অবস্থান প্রমাণ করে যে, হাদি সশরীরে না থাকলেও তার আদর্শ এখনো জীবন্ত এবং তা প্রতিটি বিপ্লবী হৃদয়ে মশাল হয়ে জ্বলছে। বিচারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবেই। হাদির স্বপ্ন ও তার আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সেজন্য রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশবাসী এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছে, যখন সত্যের জয় হবে এবং হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত হবে।

Comments