S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন: এল ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফ

January 11, 2026

বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন এর ৫০ মেগাপিক্সেল ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ।
প্রিমিয়াম ডিজাইনের এইচটিসি ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফ পাওয়া যাচ্ছে দুটি ভিন্ন রঙে।


বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন: দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দেশের বাজারে ফিরল কিংবদন্তি ব্র্যান্ড এইচটিসি। এক সময়ের জনপ্রিয় এই গ্লোবাল ব্র্যান্ডটি এবার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বা দেশীয় উৎপাদনের তকমা নিয়ে বাজারে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি জানান দিয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে এইচটিসি ফোনের উৎপাদক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সেলেক্সট্রা লিমিটেড এই নতুন যাত্রার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

স্মার্টফোন প্রেমীদের কাছে এইচটিসি বরাবরই একটি আবেগের নাম। বিশ্বের প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিংবা প্রথম টাচস্ক্রিন হ্যান্ডসেট—সবক্ষেত্রেই পথিকৃৎ ছিল এই ব্র্যান্ডটি। মাঝে কয়েক বছর বাজার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকলেও, বাংলাদেশে নিজস্ব কারখানায় ফোন তৈরির মাধ্যমে তারা তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। সেলেক্সট্রা লিমিটেডের হাত ধরে বাজারে আসা এইচটিসির প্রথম মডেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফ’ (Wildfire E7 Life)।

বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন-এর কারিগরি বৈশিষ্ট্য
নতুন এই স্মার্টফোনটি মূলত বাজেট সচেতন গ্রাহকদের জন্য তৈরি করা হলেও এর ফিচারে কোনো আপস করা হয়নি। ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭৪ ইঞ্চি এইচডি প্লাস (HD+) ডিসপ্লে। উন্নত ইনসেল এবং ওয়াটারড্রপ প্রযুক্তিনির্ভর এই ডিসপ্লেতে রয়েছে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, যা এই বাজেটের ফোনে সচরাচর দেখা যায় না। ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকার কারণে ব্যবহারকারীরা গেম খেলা বা ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত মসৃণ অভিজ্ঞতা পাবেন। এছাড়া ডিসপ্লের ৪৮০ নিটস উজ্জ্বলতা দিনের কড়া রোদেও স্ক্রিন দেখার সুবিধা নিশ্চিত করবে।

ফোনটির ভেতরে পারফরম্যান্সের জন্য দেওয়া হয়েছে ইউনিসক টাইগার টি৬১৫ (Unisoc Tiger T615) অক্টাকোর প্রসেসর। মাল্টিটাস্কিং এবং গেমিংয়ের জন্য এতে রয়েছে ৬ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ১২৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। পর্যাপ্ত স্টোরেজ থাকায় ব্যবহারকারীকে ছবি বা ফাইল ডিলিট করার দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন গুলোর মধ্যে এই মডেলটি কনফিগারেশনের দিক থেকে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ।

অ্যান্ড্রয়েড ১৬ এবং ব্যাটারি পারফরম্যান্স
প্রযুক্তিগত দিক থেকে ফোনটিকে আধুনিক রাখতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ১৬। আধুনিক ইন্টারফেস এবং নিরাপত্তা সুবিধার সমন্বয়ে এই ফোনটি ব্যবহারকারীকে এক নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে এতে রয়েছে ৫,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের (mAh) একটি বিশাল ব্যাটারি। সারাদিন হেভি ইউজ করার পরেও ব্যবহারকারীকে চার্জ নিয়ে খুব একটা ভাবতে হবে না।

ক্যামেরা ও ডিজাইন
বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে ক্যামেরার গুরুত্ব অপরিসীম। সেই কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফের পেছনে দেওয়া হয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা এবং ০.০৮ মেগাপিক্সেলের সাপোর্টিং সেন্সর। দিনের আলোতে যেমন প্রাণবন্ত ছবি পাওয়া যাবে, তেমনি কৃত্রিম আলো বা কম আলোতেও ভালো মানের ছবি তোলা সম্ভব হবে। সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ফোনটি শ্যাম্পেন গোল্ড এবং গ্রে—এই দুটি আভিজাত্যপূর্ণ রঙে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

কেন এইচটিসিকে বেছে নেবেন?
এইচটিসি মানেই প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি। তাইওয়ান ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৭ সাল থেকে মোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। ২০০৮ সালে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন ‘এইচটিসি ড্রিম’ বাজারে এনে তারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন এখন অনেক বেশি সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা মূল্যে এই ধরণের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড এবং উন্নত কনফিগারেশন সত্যিই বিরল।

সেলেক্সট্রা লিমিটেডের বিপণন বিভাগের প্রধান মামুন খান বলেন, “বর্তমান বাজারের প্রেক্ষাপটে এইচটিসি ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। আমরা গুণগত মানের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি। ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ১২০ হার্টজ ডিসপ্লে আমাদের এই ফোনটিকে প্রতিযোগীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রাখবে। যেহেতু এটি আমাদের দেশেই তৈরি হচ্ছে, তাই এর বিক্রয়োত্তর সেবা এবং স্থায়িত্ব নিয়ে গ্রাহকদের আস্থার জায়গাটি আরও সুদৃঢ় হবে।”

বিশেষ অফার ও সংযোগ সুবিধা
নতুন এই স্মার্টফোনটির সাথে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন দিচ্ছে আকর্ষণীয় ইন্টারনেট অফার। ফোনটি কিনলেই গ্রাহকরা পাবেন ৭ দিন মেয়াদি ৫ জিবি ফ্রি ডেটা। এছাড়াও গ্রাহকদের সাশ্রয়ী প্যাকেজের সুবিধা দিতে রয়েছে দুটি বিশেষ অফার:
১. ৯৯ টাকায় ১০ জিবি ডেটা (মেয়াদ ৭ দিন)।
২. ২৯৮ টাকায় ৪০ জিবি ডেটা (মেয়াদ ৩০ দিন)।
একজন ব্যবহারকারী ফোনটি কেনার পর প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত যতবার খুশি এই সাশ্রয়ী প্যাকেজগুলো নিতে পারবেন। বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।

দেশীয় শিল্পে এইচটিসির প্রভাব
বাংলাদেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন শিল্পের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। এইচটিসির মতো একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড যখন বাংলাদেশে তাদের কারখানা স্থাপন করে এবং ফোন উৎপাদন শুরু করে, তখন তা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। এর ফলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাশ্রয়ী দামে বিশ্বমানের প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন ভবিষ্যতে আরও উন্নত মডেলের ফোন বাজারে নিয়ে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পুরানো দিনের সেই আভিজাত্য আর আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে এইচটিসি আবারও স্মার্টফোনের রাজত্বে ফিরছে। যারা বাজেট ফ্রেন্ডলি মূল্যে একটি ভালো ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা দামের এই ফোনটি বাজারের অন্যতম সেরা ডিল হতে পারে। উন্নত ক্যামেরা, বিশাল ব্যাটারি এবং ১২০ হার্টজ ডিসপ্লের এই ফোনটি সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনও অনায়াসে মেটাবে।

এইচটিসির নতুন অধ্যায়
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ের টপ চার্টে থাকা এইচটিসি আবারও বাংলাদেশে বড় ধরণের বাজার দখল করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তির লড়াইয়ে হার না মানা এই ব্র্যান্ডটি তাদের ‘ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফ’ মডেলের মাধ্যমে নতুন করে সবার মনে জায়গা করে নিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন কেবল একটি পণ্য নয়, বরং এটি দেশীয় প্রযুক্তির সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ। তাই আপনি যদি নতুন একটি ফোন কেনার কথা ভেবে থাকেন, তবে এইচটিসির এই নস্টালজিক প্রত্যাবর্তনের সঙ্গী হতে পারেন আজই।

সেলেক্সট্রা লিমিটেডের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই ফোনটি সংগ্রহ করা সম্ভব। গুণগত মান, আভিজাত্য আর আধুনিকতার এক দারুণ মিশেল হচ্ছে এই বাংলাদেশে তৈরি এইচটিসি স্মার্টফোন। স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রিতে এইচটিসির এই ফিরে আসা দীর্ঘমেয়াদে ক্রেতাদের জন্য ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Comments