S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে, সূচকে বীমা খাতের চমক

January 13, 2026

 

নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে এবং ডিএসই সূচকের বর্তমান অবস্থা।
নির্বাচনের কোনো প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে

নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে, এই কথাটিই এখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অলিগলিতে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের পর সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে সূচকের যৎসামান্য উত্থান দেখা গেলেও বিনিয়োগকারীদের মন থেকে ভীতি দূর হচ্ছে না। মূলত বীমা খাতের শেয়ারের ওপর ভর করেই সূচকটি কিছুটা সবুজে ফিরেছে, কিন্তু বাজারের সামগ্রিক চিত্র এখনো ধূসর। বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন নির্বাচনের আগে বাজারে অন্তত কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অর্থাৎ, নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে—এই বিষয়টিই এখন লেনদেনের চিত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে।

বীমা খাতের সাময়িক চমক ও বাজারের অনিশ্চয়তা

সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে বড় ধরনের দরপতনের পর মঙ্গলবার তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসই’র সূচকে ৪ পয়েন্টের একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে এই ৪ পয়েন্টের উত্থান মোটেও বাজারের স্থিতিশীলতার লক্ষণ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এদিন বীমা খাতের শেয়ারে ব্যাপক কেনাবেচা হয়েছে, যার ফলে সূচকটি শেষ মুহূর্তে ইতিবাচক অবস্থানে থাকতে পেরেছে। কিন্তু ব্যাংকিং খাত, আইটি বা ওষুধ খাতের মতো বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যখন বড় কোম্পানিগুলো দর হারায়, তখন বীমা খাতের মতো ছোট মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোতে এক ধরনের কৃত্রিম চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এটি বাজারের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ভালো কোনো ফল বয়ে আনে না। বরং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ধরনের উত্থানে ভরসা পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তারা মনে করছেন, যেহেতু নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে, সেহেতু বড় বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন।

নির্বাচনী আবহেও লেনদেনের খরা

সাধারণত যেকোনো দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে অর্থনীতির চাকা সচল হয় এবং পুঁজিবাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বাজারকে স্থবির করে রেখেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী, বড় বিনিয়োগকারীরা এখন ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি অনুসরণ করছেন। তারা দেখছেন নির্বাচনের পর বাজারের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়। লেনদেনের পরিমাণ দিন দিন কমে আসা এবং সূচকের উঠানামা প্রমাণ করে যে, নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে। যেখানে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার কথা, সেখানে লেনদেনের পরিমাণ মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে সীমাবদ্ধ থাকা বাজারের জন্য একটি অশনিসংকেত।

আস্থাহীনতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তির কারণে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। অনেক বিনিয়োগকারী তাদের জমানো পুঁজি হারিয়ে এখন নিঃস্বপ্রায়। এর ওপর বাজারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন—যদি বাজারের সব সূচকই নিম্নমুখী থাকে, তবে বিনিয়োগের নিরাপত্তা কোথায়?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর হতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কোনোভাবেই বাজারে তারল্য সংকট কাটবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকার কথা, সেখানে নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে—এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, বাজারের মৌলিক সমস্যাগুলো এখনো সমাধান হয়নি।

ডিএসই ও সিএসইর সর্বশেষ পরিসংখ্যান

মঙ্গলবার দিনের শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক (DSES) ২ পয়েন্ট কমে ৯৯৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক (DS30) ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এদিন ডিএসইতে ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যার মধ্যে:

  • দর বেড়েছে: ১৫৯টির

  • দর কমেছে: ১৫৬টির

  • অপরিবর্তিত রয়েছে: ৭৫টির

ডিএসইতে এদিন মোট ৩৮৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। গত সোমবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৫২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় লেনদেন সামান্য বাড়লেও তা বাজারের জন্য পর্যাপ্ত নয়। বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এই লেনদেন খরা কাটছে না, কারণ নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে ১৬০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ৬১টির দর বেড়েছে এবং ৬৭টির দর কমেছে। সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আলমগীর হোসেনের মতে, “পুঁজিবাজারে এখন এক ধরনের আস্থার সংকট চলছে। বিনিয়োগকারীরা নতুন করে টাকা খাটাতে ভয় পাচ্ছেন। নির্বাচনী মৌসুমে যেখানে নতুন বিনিয়োগ আসার কথা, সেখানে নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে। বাজারকে গতিশীল করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়ানো।”

গুগল এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক তথ্যসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বর্তমানে পিই রেশিও অনেক শেয়ারের ক্ষেত্রেই বিনিয়োগযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের এই বিমুখতা প্রমাণ করে যে, তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার চেয়েও বাজারের অভ্যন্তরীণ সুশাসনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যেহেতু নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে, তাই বাজার তার নিজস্ব গতিতে চলার চেষ্টায় বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তারল্য সংকট ও বাজার পরিস্থিতি

পুঁজিবাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হলো তারল্য প্রবাহ। বর্তমানে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ কমেছে। বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্রের দিকে বেশি ঝুঁকছেন, কারণ সেখানে ঝুঁকি কম। এছাড়া বড় বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে লাভ তুলে নিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকায় লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার গণ্ডি পার হতে পারছে না। এর ফলে বারবার প্রমাণিত হচ্ছে যে, নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচনের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে তার আগে বাজারের এই স্থবিরতা কাটাতে বিশেষ কোনো প্রণোদনা বা নীতিগত পরিবর্তন না আসলে বিনিয়োগকারীরা ফিরে আসবেন না। আগামী কয়েক কার্যদিবসে সূচকের অবস্থান ৪ হাজার ৯০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেলে বাজার আরও বড় ধরনের ধসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের উচিত হবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করা এবং কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়া।

আগামীর প্রত্যাশা

পুঁজিবাজার কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি। যদিও বর্তমানে নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে, তবুও বিনিয়োগকারীরা স্বপ্ন দেখছেন একটি গতিশীল বাজারের। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং বিএসইসি যদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়, তবেই বাজারের চিত্র বদলাবে। বীমা খাতের মতো কোনো নির্দিষ্ট একটি খাতের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক বাজারের উন্নতি হওয়া জরুরি।

পরিশেষে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, উত্থান-পতনের এই খেলায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সূচক ৪ পয়েন্ট বাড়া বা কমা খুব বড় কোনো পরিবর্তন নয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত লেনদেন ১০০০ কোটি টাকার উপরে পৌঁছাচ্ছে। বাজারে যতক্ষণ পর্যন্ত বড় মূলধনী শেয়ারগুলোর প্রতি আগ্রহ না বাড়বে, ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে—এই ধ্রুব সত্যটি অপরিবর্তিতই থাকবে।

বাজার পর্যালোচনায় বিনিয়োগকারীদের প্রতি বিশেষ বার্তা
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমান অস্থিতিশীল বাজারে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এবং ডিভিডেন্ড প্রদানের ইতিহাস যাচাই করা উচিত। নির্বাচনের এই সময়ে আবেগতাড়িত হয়ে কোনো শেয়ার কেনা বা বেচা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। কারণ, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে, তাই বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরে আসার জন্য ধৈর্য ধারণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

Comments