হাড়কাঁপানো শীতে পুকুরে ঝাঁপ! শুটিং নয়, গ্রাম্য জীবনে নিজেকে ফিরে পেলেন দুরন্ত পরীমনি
শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় টক অব দ্য টাউন। বাইরে বইছে মাঘের হাড়কাঁপানো বাতাস। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের দেখা মিললেও, তাতে উত্তাপ নেই বললেই চলে। সাধারণ মানুষ যখন লেপ-কম্বলের উষ্ণতা ছেড়ে বের হতে দশবার ভাবছেন, ঠিক তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় ফেলে দিলেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। তবে কোনো সিনেমার দৃশ্য বা শুটিংয়ের প্রয়োজনে নয়, নিতান্তই শখ আর ব্যক্তিগত ভালোলাগা থেকে কনকনে শীতের পানিতে ঝাঁপ দিলেন এই অগ্নিকন্যা। পরীমনির এমন কাণ্ড দেখে নেটিজেনরা যেমন অবাক, তেমনি তার সাহসের প্রশংসাও করছেন পঞ্চমুখ হয়ে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায়, তীব্র শীত উপেক্ষা করে পুকুরের বরফশীতল পানিতে জলকেলিতে মেতেছেন পরী। তার চোখে-মুখে নেই কোনো জড়তা, বরং আছে একরাশ উচ্ছ্বাস।
গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ এবং শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ
পরীমনি মানেই যেন সংবাদের শিরোনাম। কখনো তার সিনেমা, কখনো ব্যক্তিগত জীবন, আবার কখনো তার সাহসী পদক্ষেপ—সবকিছুই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে গ্ল্যামার জগতের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে গিয়ে পরীমনি এবার ধরা দিয়েছেন গ্রামবাংলার এক দুরন্ত কিশোরীর রূপে। আর এই রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার মাধ্যমে।
জানা গেছে, যান্ত্রিক শহরের কোলাহল ছেড়ে পরীমনি গিয়েছিলেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে। আর সেখানেই তিনি মেতে ওঠেন এই শীতকালীন স্নানে। সাধারণত শীতের দিনে পুকুরের পানিতে নামার কথা ভাবলেই যেখানে অনেকের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে, সেখানে পরীমনি নির্দ্বিধায় ঝাঁপ দিলেন পানিতে। তার এই কাজে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তিনি মনের দিক থেকে কতটা স্বাধীন। শুটিং স্পটের ‘কাট’ আর ‘অ্যাকশন’-এর বাইরে যে এক অন্য পরীমনি আছেন, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
শুটিং নয়, কেন শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ?
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে—কোনো শুটিং ছাড়া কেন এই শীতে পানিতে নামলেন তিনি? এর উত্তর মিলেছে পরীমনির ঘনিষ্ঠজন এবং তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে। পরীমনি বরাবরই নিজেকে ‘পানির পোকা’ বলে দাবি করেন। সুযোগ পেলেই তিনি পানিতে নামতে ভালোবাসেন। আর গ্রাম বা রিসোর্টের পুকুর হলে তো কথাই নেই।
শীতের সকাল বা দুপুর, কোনো বাঁধাই যেন তাকে আটকাতে পারে না। এবারের শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ দেওয়াটা ছিল তার সেই শখেরই বশবর্তী হয়ে। নিজের মনের আনন্দের জন্য, একটু রিফ্রেশমেন্টের জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন এই দুঃসাহসিক আনন্দকে। উপস্থিত যারা ছিলেন, তারা শীতে কাঁপলেও পরীমনিকে দেখা গেছে পানিতে সাঁতার কাটতে এবং প্রাণখুলে হাসতে।
নেটিজেনদের চোখে শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ
পরীমনি যখনই কিছু করেন, তা নিয়ে আলোচনা হবে না—এমনটা ভাবা বোকামি। কনকনে শীতে তার এই জলকেলির দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই কমেন্ট বক্সে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ভক্তরা। অধিকাংশ ভক্তই তার এই প্রাণবন্ত রূপের প্রশংসা করেছেন।
ফেসবুকে এক ভক্ত লিখেছেন, “পরীমনি আসলেই একটা ‘ডেয়ারিং’ মেয়ে। এই শীতে অজু করতে ভয় লাগে, আর আপু পুকুরে সাঁতার কাটছেন! কলিজা আছে বটে।” আরেকজন লিখেছেন, “শহর তাকে মেকি বানাতে পারেনি। তার এই শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ প্রমাণ করে তিনি মাটির গন্ধ আর গ্রামের পুকুর পেলে এখনো সেই ছোটবেলার মতো পাগলপারা হতে পারেন।”
অবশ্য কেউ কেউ স্বাস্থ্যের কথা ভেবে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই ঠান্ডায় এভাবে পানিতে নামাটা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে পরীমনি সেসব তোয়াক্কা করার পাত্রী নন। আনন্দ করাটাই তার কাছে মুখ্য।
গ্ল্যামারের আড়ালে একজন সাধারণ মানুষ
আমরা সচরাচর নায়িকাদের মেকআপ, ভারী গয়না আর ডিজাইনার পোশাকে দেখতেই অভ্যস্ত। কিন্তু পরীমনি বারবার সেই ছক ভেঙে দেন। কখনো তিনি রাস্তার ধারের টং দোকানে চা খান, কখনো পথশিশুদের সঙ্গে আড্ডা দেন, আবার কখনো এই কনকনে শীতে পুকুরে ঝাঁপ দেন।
তার এই আচরণগুলো প্রমাণ করে, তিনি নিজেকে কেবল একজন ‘স্টার’ হিসেবেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। তার ভেতরে যে একজন সাধারণ মানুষ বাস করে, যে কি না ছোট ছোট বিষয়ে আনন্দ খুঁজে পায়, তা বারবার প্রকাশ পায়। আচমকা শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনাটি তাকে তার ভক্তদের আরও কাছে নিয়ে গেছে। মানুষ বুঝতে পেরেছে, পরীমনি তাদের মতোই রক্ত-মাংসের মানুষ, যিনি জীবনটাকে উপভোগ করতে জানেন।
নস্টালজিয়া জাগানিয়া শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ
পরীমনির এই ঘটনা অনেককেই তাদের শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। গ্রামবাংলায় যারা বড় হয়েছেন, তারা জানেন শীতের দুপুরে পুকুরে দাপাদাপি করার আনন্দই আলাদা। পানি ঠান্ডা হলেও, বন্ধুদের সঙ্গে সেই দুরন্তপনায় শীত হার মানত। পরীমনি যেন সেই নস্টালজিয়াকেই উসকে দিলেন।
শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে আমরা অনেকেই প্রকৃতির এই স্পর্শ ভুলে গেছি। কিন্তু পরীমনি তার ব্যস্ত শিডিউলের ফাঁকে ঠিকই সময় বের করে নিয়েছেন নিজেকে প্রকৃতির কাছে সঁপে দিতে। বরফশীতল পানি তার শরীর ছুঁয়ে দিলেও, তার মনের উষ্ণতা যে এতটুকু কমেনি, তা তার হাসিই বলে দিচ্ছিল।
আগামী দিনের ব্যস্ততা ও জীবনবোধ
ব্যক্তিগত এই আনন্দ ভ্রমণের পরই হয়তো আবারও ব্যস্ত হয়ে পড়বেন পরীমনি। হাতে রয়েছে বেশ কিছু সিনেমার কাজ এবং প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটি। ওয়েব ফিল্ম থেকে শুরু করে বড় পর্দা—সব জায়গাতেই তার বিচরণ। তবে কাজের চাপে পিষ্ট না হয়ে তিনি যে নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন, তা নতুন প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয়। মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিজেকে ভালো রাখার জন্য মাঝেমধ্যে এমন পাগলামি বা শখের পূরণ করাটা খুবই জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, শীতে পরীমনির পুকুরে ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়টি কেবল একটি ভাইরাল নিউজ নয়, এটি একটি বার্তা। বার্তাটি হলো—জীবনকে উপভোগ করতে হয় নিজের শর্তে। লোকে কী বলবে, বা নিয়ম কী বলে—সেসবের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজের মনের খোরাক জোগানোটা আসল। পরীমনি প্রমাণ করলেন, তিনি যেমন পর্দায় চরিত্র হয়ে উঠতে পারেন, তেমনি বাস্তবে তিনি নিজের গল্পের নিজেই রানী। শীত আসুক বা ঝড়, পরীমনি থাকবেন তার নিজস্ব ছন্দে।
ভিডিও দেখার জন্য ক্লিক করুন:
Comments
Post a Comment