S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

Infinix Smart 20 রিভিউ: ১২ হাজারে আইফোন লুক!

February 21, 2026

 

Infinix Smart 20 স্মার্টফোনের সম্পূর্ণ রিভিউ এবং দাম
১২ হাজার টাকায় আইফোন ডিজাইনের Infinix Smart 20

Infinix Smart 20 রিভিউ: ১২ হাজার টাকায় আইফোনের লুক, সাথে ১ কিমি ফ্রি কলিং সুবিধা!

Infinix Smart 20 নিয়ে বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে বেশ আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বাজেট সেগমেন্টে ক্রেতারা এমন একটি ফোন খুঁজেন, যা দেখতে প্রিমিয়াম এবং দৈনন্দিন কাজে সাবলীল পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। এই চাহিদাকে মাথায় রেখেই ইনফিনিক্স তাদের নতুন এই মডেলটি বাজারে আনছে। ফোনটিতে আইফোনের মতো ডিজাইন, ১২০ হার্জের স্মুথ ডিসপ্লে এবং বিনা ইন্টারনেটে ১ কিলোমিটার পর্যন্ত কথা বলার মতো অভাবনীয় সব ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। আজকের এই নিউজ আর্টিকেলে আমরা ফোনটির স্পেসিফিকেশন, ভালো-মন্দ দিক এবং বাংলাদেশের বাজারে এর অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করব।

📅 Infinix Smart 20 Launch তারিখ (Launch Date)

ইনফিনিক্সের এই স্মার্টফোনটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও সব জায়গায় সম্পন্ন হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটের গুঞ্জন ও তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্লোবাল এবং বাংলাদেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হতে পারে নতুন এই ডিভাইসটি।

💰 Infinix Smart 20 প্রাইস (Price in Bangladesh)

বাংলাদেশের বাজারে Infinix Smart 20 স্মার্টফোনটির প্রত্যাশিত দাম রাখা হয়েছে মাত্র ১২,০০০ টাকা (অফিশিয়াল)। বাজেট সেগমেন্টের ক্রেতাদের টার্গেট করেই ফোনটির এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এর স্পেসিফিকেশনের সাথে বেশ মানানসই এবং সাশ্রয়ী।

🎨 Infinix Smart 20 এর ডিজাইন ও বডি (Design & Body)

বাজেট ফোন হলেও ডিজাইনের দিক থেকে ইনফিনিক্স কোনো আপস করেনি। ফোনটির পেছনের ক্যামেরা মডিউলটি দেখলে একনজরে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স-এর কথা মনে পড়ে যেতে পারে। যদিও এখানে ট্রিপল ক্যামেরার মতো ডিজাইন করা হয়েছে, তবে মূলত সেন্সর রয়েছে একটিই।

ফোনটির বডি ডাইমেনশন ১৬৭.৭ x ৭৮.৮ মিলিমিটার এবং এটি মাত্র ৭.৭ মিলিমিটার আল্ট্রা-স্লিম। এর সামনে গ্লাস প্যানেল থাকলেও ফ্রেম এবং পেছনের অংশটি সম্পূর্ণ প্লাস্টিকের তৈরি। তবে বিল্ড কোয়ালিটি বেশ মজবুত, যা ১.৫ মিটার পর্যন্ত ড্রপ রেজিস্ট্যান্ট। তাছাড়া ফোনটিতে রয়েছে IP64 রেটিং, যার ফলে হালকা বৃষ্টি বা ঘামে ফোনটির কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

কালার ভ্যারিয়েন্ট (Color Variants)

ক্রেতাদের রুচির ভিন্নতার কথা মাথায় রেখে স্মার্ট ২০ ফোনটি চারটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে আসবে:

  • শ্যাডো ব্ল্যাক (Shadow Black)

  • পোলারিস টাইটানিয়াম (Polaris Titanium)

  • সানলাইক অরেঞ্জ (Sunlike Orange)

  • ক্লাউডলাইন ব্লু (Cloudline Blue)

📱 ডিসপ্লে (Display Quality)

ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির একটি বিশাল আইপিএস এলসিডি (IPS LCD) প্যানেল। এই বাজেটে সাধারণত নচ ডিসপ্লে দেখা গেলেও ইনফিনিক্স এখানে আধুনিক পাঞ্চ-হোল কাটআউট ব্যবহার করেছে। ডিসপ্লেটির রেজোলিউশন HD+ (৭২০ x ১৫৭৬ পিক্সেল), যা এতো বড় স্ক্রিনের জন্য কিছুটা কম মনে হতে পারে। তবে এর ঘাটতি পুষিয়ে দিতে দেওয়া হয়েছে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট, যা স্ক্রলিং বা গেম খেলার সময় দুর্দান্ত স্মুথনেস প্রদান করবে। এছাড়া ৭০০ নিটস (HBM) পিক ব্রাইটনেস থাকায় কড়া রোদের আলোতেও ডিসপ্লে দেখতে কোনো সমস্যা হবে না। এতে অ্যাপলের আইল্যান্ডের মতো 'ডাইনামিক বার' ফিচারও রয়েছে।

⚙️ প্ল্যাটফর্ম ও পারফরম্যান্স (Platform - OS, Chipset, CPU, GPU)

যেকোনো স্মার্টফোনের প্রাণ হলো এর প্রসেসর এবং অপারেটিং সিস্টেম।

  • OS: Infinix Smart 20 রান করবে একেবারে লেটেস্ট Android 16 ভিত্তিক কাস্টম ইউআই XOS 16-এ। বাজেট ফোনে লেটেস্ট সফটওয়্যার পাওয়াটা বেশ ইতিবাচক।

  • Chipset: এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ১২ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারের MediaTek Helio G81 Ultimate চিপসেট।

  • CPU & GPU: অক্টা-কোর প্রসেসরের পাশাপাশি গ্রাফিক্সের জন্য রয়েছে Mali-G52 MC2 জিপিইউ।

পারফরম্যান্সের কথা বলতে গেলে, বর্তমান সময়ের হিসেবে এটি কিছুটা দুর্বল। দৈনন্দিন কাজ, ইউটিউব দেখা বা টিকটক চালানোর জন্য এটি ঠিকঠাক হলেও হেভি গেমিংয়ের জন্য এটি মোটেও উপযুক্ত নয়। ফ্রি-ফায়ার, লুডু বা টু-ডি গেমগুলো অনায়াসে খেলা গেলেও পাবজির মতো গেম খেলতে গেলে ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপের সম্মুখীন হতে হবে।

💾 মেমরি ও স্টোরেজ (Memory - RAM & Storage)

ইনফিনিক্স তাদের মার্কেটিংয়ে "১৬ জিবি র‍্যাম" বলে প্রচার করলেও এর পেছনের বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন।

  • RAM: Infinix Smart 20 ফোনটিতে হার্ডওয়্যার ভিত্তিক ফিজিক্যাল র‍্যাম রয়েছে মাত্র ৪ জিবি। এর সাথে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভার্চুয়াল র‍্যাম যুক্ত করে সেটিকে ১৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, ভার্চুয়াল র‍্যাম কখনোই ফিজিক্যাল র‍্যামের মতো পারফর্ম করতে পারে না।

  • Storage: স্টোরেজ অপশন হিসেবে থাকছে ৬৪ জিবি, ১২৮ জিবি এবং ২৫৬ জিবি (eMMC 5.1)।

  • SD Card: ডেডিকেটেড মাইক্রোএসডি স্লট থাকায় এতে ২ টিবি পর্যন্ত মেমরি কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

📸 মূল ক্যামেরা (Main Camera)

পেছনের অংশে বিশাল ক্যামেরা মডিউল থাকলেও মূল ক্যামেরাটি মাত্র ৮ মেগাপিক্সেলের (f/2.0 অ্যাপারচার)। সাথে একটি ডুয়েল-এলইডি ফ্ল্যাশ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI চালিত এই ক্যামেরা দিয়ে দিনের আলোতে মোটামুটি চলনসই ছবি তোলা যাবে। তবে খুব বেশি শার্পনেস বা ডিটেইল আশা করা ঠিক হবে না। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পেছনের ক্যামেরা দিয়ে সর্বোচ্চ 2K (১৪৪০ পিক্সেল) এবং 1080p রেজোলিউশনে ৩০ এফপিএস-এ ভিডিও ধারণ করা সম্ভব।

🤳 সেলফি ক্যামেরা (Selfie Camera)

সেলফি এবং ভিডিও কলিংয়ের জন্য সামনেও দেওয়া হয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের একটি সেন্সর। বাজেট ফোন হিসেবে ফ্রন্ট ক্যামেরার পারফরম্যান্স গড়পড়তা। পেছনের ক্যামেরার মতোই এটি দিয়ে 2K রেজোলিউশনে ভিডিও করা যাবে।

🎵 সাউন্ড কোয়ালিটি (Sound)

অডিও এক্সপেরিয়েন্সের দিক থেকে এই ফোনটি ১২ হাজার টাকার বাজেটে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। কারণ এতে রয়েছে ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার (DTS Sound), যা বেশ লাউড এবং ক্লিয়ার সাউন্ড আউটপুট দেয়। পাশাপাশি যারা তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাকও রাখা হয়েছে।

📡 কানেক্টিভিটি এবং নেটওয়ার্ক (Network & Connectivity)

ফোনটিতে ডুয়েল ন্যানো সিম ব্যবহার করা যাবে এবং এটি 2G, 3G ও 4G LTE নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে। কানেক্টিভিটির জন্য রয়েছে ডুয়েল-ব্যান্ড ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস এবং ইউএসবি টাইপ-সি (OTG সাপোর্টেড) পোর্ট।

সবচেয়ে অবাক করা ফিচারটি হলো UltraLink Free Offline Contact। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো সিমের নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট ডেটা ছাড়াই ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই মেশ টেকনোলজি ব্যবহার করে ১ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে থাকা অন্য ডিভাইসের সাথে ফ্রিতে কথা বলা সম্ভব।

🛠️ Infinix Smart 20 এর স্পেশাল ফিচার (Features & Sensors)

  • IR Blaster: ইনফ্রারেড পোর্ট বা এয়ার ব্লাস্টার রয়েছে, যা দিয়ে টিভি বা এসির রিমোট হিসেবে ফোনটিকে ব্যবহার করা যাবে।

  • NFC: এই বাজেটে এনএফসি সাপোর্ট থাকাটা বেশ দুর্লভ, যা এই ফোনে যুক্ত করা হয়েছে।

  • Sensors: নিরাপত্তার জন্য সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের পাশাপাশি এক্সেলেরোমিটার, প্রক্সিমিটি, লাইট সেন্সর এবং ই-কম্পাস রয়েছে।

🔋 ব্যাটারি ও চার্জিং (Battery)

পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য Infinix Smart 20-তে দেওয়া হয়েছে শক্তিশালী ৫২০০ এমএএইচ (5200mAh) ব্যাটারি। সাধারণ ব্যবহারে এটি অনায়াসেই এক থেকে দেড় দিন ব্যাকআপ দিতে পারবে। তবে হতাশার বিষয় হলো, এতো বড় ব্যাটারি চার্জ করার জন্য দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫ ওয়াটের চার্জিং সাপোর্ট। ফোনটি ফুল চার্জ হতে বেশ অনেকটা সময় লাগবে। তবে এতে ৫ ওয়াটের রিভার্স ওয়্যারড চার্জিং সাপোর্ট রয়েছে, যা দিয়ে ইমার্জেন্সি মুহূর্তে অন্য ফোন চার্জ করা যাবে।

⚖️ Infinix Smart 20 এর ভালো দিক ও মন্দ দিক (Pros & Cons)

ভালো দিক (Pros):

  • আইপি৬৪ (IP64) রেটিং সহ ৭.৭ মিমি স্লিম ও প্রিমিয়াম ডিজাইন।

  • ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট এবং ৭০০ নিটস ব্রাইটনেসের বড় ডিসপ্লে।

  • বিনোদনের জন্য ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার এবং হেডফোন জ্যাক।

  • বাজেট ফোনে বিরল NFC এবং ইনফ্রারেড (IR) ব্লাস্টার সুবিধা।

  • দীর্ঘস্থায়ী ৫২০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং রিভার্স চার্জিং সুবিধা।

  • ইন্টারনেট ছাড়াই ১ কিলোমিটার পর্যন্ত ফ্রি কলিং ফিচার।

মন্দ দিক (Cons):

  • বড় স্ক্রিন হলেও ডিসপ্লে রেজোলিউশন মাত্র ৭২০পি (720p)।

  • ভারী কাজ বা গেমিংয়ের জন্য হেলিও জি৮১ প্রসেসর বেশ দুর্বল।

  • ফিজিক্যাল র‍্যাম মাত্র ৪ জিবি, যা বর্তমান সময়ের অ্যাপগুলোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

  • ৮ মেগাপিক্সেলের সাধারণ মানের ক্যামেরা সেটআপ।

  • মাত্র ১৫ ওয়াটের ধীরগতির চার্জিং সিস্টেম।


📊 বাজার বিশ্লেষণ ও চূড়ান্ত মন্তব্য

বাজেট স্মার্টফোনের বাজারে Infinix Smart 20 একটি মিশ্র প্যাকেজ নিয়ে হাজির হয়েছে। ফোনটির সবচেয়ে বড় বিক্রয়কেন্দ্র হতে যাচ্ছে এর আইফোন-সদৃশ ডিজাইন, ১২০ হার্জের বড় ডিসপ্লে, স্টেরিও স্পিকার এবং ১ কিলোমিটার ফ্রি অফলাইন কলিং ফিচার। মাত্র ১২ হাজার টাকা বাজেটে এনএফসি এবং আইআর ব্লাস্টার পাওয়াটাও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশ লাভজনক একটি ডিল।

তবে ফোনটি সবার জন্য নয়। বিশেষ করে যারা স্মার্টফোনে গেম খেলতে ভালোবাসেন বা একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ ব্যবহার (Multitasking) করতে চান, ৪ জিবি র‍্যাম ও হেলিও জি৮১ চিপসেট তাদের কিছুটা হতাশ করবে। সব মিলিয়ে, যাদের বাজেট ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে এবং যারা দৈনন্দিন সাধারণ ব্যবহার, মিডিয়া কনজাম্পশন (ইউটিউব/ফেসবুক দেখা) এবং আকর্ষণীয় লুকের একটি স্মার্টফোন খুঁজছেন—তাদের জন্য Infinix Smart 20 চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে ক্যামেরা বা গেমিং পারফরম্যান্সই যদি আপনার প্রধান শর্ত হয়, তবে এই বাজেটে বাজারে থাকা অন্যান্য বিকল্পগুলো যাচাই করে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Infinix Smart 20 রিভিউ-এর বিস্তারিত ভিডিও দেখুন-

ভিডিও সৌজন্যে: TECH TV BSL


Comments