🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন।🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে!🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।
iQOO 15 Ultra রিভিউ: পারফরম্যান্স ও ব্যাটারিতে বড় চমক
February 15, 2026
স্টাইলিশ ডিজাইনে নতুন আইকিউ ১৫ আল্ট্রা (iQOO 15 Ultra)।
iQOO 15 Ultra স্মার্টফোনটি বর্তমানে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক চমক নিয়ে আসা আইকিউ (iQOO) এবার তাদের প্রথম ‘আল্ট্রা’ সিরিজের ফোন দিয়ে যেন বাজারে রীতিমতো একটি শক্তিশালী বোমা ফাটিয়েছে। আইকিউ এর এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি এমন সব ক্ষমতা আর শক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে যা দেখে অভিজ্ঞ রিভিউয়াররাও অবাক হচ্ছেন। গত কয়েক বছরে আমরা যতগুলো ফোনের পারফরম্যান্স পরীক্ষা করেছি, তার মধ্যে সবচাইতে বেশি স্কোর অর্জন করে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে এই ফোনটি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
স্মার্টফোন প্রেমীদের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাজারে উন্মোচিত হলো iQOO 15 Ultra। এটি মূলত যারা হাই-এন্ড গেমিং পছন্দ করেন এবং বাজেটের চেয়ে পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ৪১ থেকে ৪৫ লাখের অবিশ্বাস্য আনটুটু (AnTuTu) স্কোর নিয়ে আসা এই ফোনটিকে বলা হচ্ছে ‘পারফরম্যান্সের দানব’। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক এই স্মার্টফোনটি সম্পর্কে।
iQOO 15 Ultra-র নজরকাড়া ডিজাইন ও সলিড বিল্ড কোয়ালিটি
ডিজাইনের দিক থেকে এই ফোনটিতে আইকিউ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। ফোনের পেছনের অংশে একটি সলিড ফিল পাওয়া যায়, যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে আকর্ষণীয় ‘হানিকম টেক্সচার’। এটি আলোর বিপরীতে ধরলে এক অদ্ভুত সুন্দর আবহ তৈরি করে। তবে ফোনটিকে খুব বেশি স্লিম বলা যাবে না, বরং এটি কিছুটা বালকি বা ভারী (২২৭ গ্রাম)। এর পেছনে বড় কারণ হলো এর শক্তিশালী কুলিং সিস্টেম এবং বড় ব্যাটারি।
ফোনটির বাম দিকে একটি বিশেষ ভেন্টিলেশন চেম্বার দেখা যায়। এর ভেতরে ৫৯টি পাখাবিশিষ্ট একটি সক্রিয় কুলিং ফ্যান ব্যবহার করা হয়েছে, যা লিকুইড কুলিংয়ের পাশাপাশি এয়ার কুলিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এই প্রযুক্তিটি সাধারণত আমরা নামী দামী গেমিং ফোনগুলোতে দেখে থাকি। এছাড়া এটি আইপি ৬৮ এবং আইপি ৬৯ (IP68/IP69) ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট, যা উচ্চ চাপের পানির ঝাপ্টাতেও ফোনটিকে সুরক্ষিত রাখবে।
ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতায় iQOO 15 Ultra
আইকিউ তাদের এই আল্ট্রা সিরিজে ডিসপ্লের মানের ওপর ব্যাপক জোর দিয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে ৬.৮৫ ইঞ্চির ২কে (2K) এম৪ (M4) অ্যামোলেড ফ্ল্যাট ডিসপ্লে। এর রিফ্রেশ রেট ১৪৪ হার্টজ এবং এতে ডলবি ভিশন ও HDR10+ সাপোর্ট রয়েছে। সবচাইতে চমকপ্রদ তথ্য হলো এর ৮০০০ নিটসের পিক ব্রাইটনেস। যদিও এই ব্রাইটনেস পরিমাপ করা কঠিন, তবে প্রখর রোদেও ডিসপ্লের কন্টেন্ট একদম স্বচ্ছভাবে দেখা যায়। গেমিং কিংবা সিনেমা দেখার সময় এর কালার রিপ্রোডাকশন এবং ডিটেইলিং আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।
iQOO 15 Ultra-র প্রসেসর ও পারফরম্যান্সের শক্তি
পারফরম্যান্সের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের লেটেস্ট Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট, যা ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি। সেই সঙ্গে আইকিউ তাদের নিজস্ব গেমিং চিপ ‘Q3’ যুক্ত করেছে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে iQOO 15 Ultra এমন এক অভিজ্ঞতা প্রদান করে যা বর্তমান সময়ের যেকোনো ফ্ল্যাগশিপ ফোনের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। অ্যাপ ওপেন হওয়া থেকে শুরু করে ভারী মাল্টিটাস্কিং—সবকিছুই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
আমরা এই ফোনটি দিয়ে দীর্ঘ সময় পাবজি (PUBG), কল অফ ডিউটি এবং জেনশিন ইমপ্যাক্টের মতো গেমগুলো খেলেছি। কোনো ধরনের ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ ছাড়াই এটি স্মুথ গেমপ্লে নিশ্চিত করে। গেমারদের জন্য এতে রয়েছে দুটি প্রেসার সেন্সিটিভ শোল্ডার ট্রিগার এবং থ্রিডি আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, যা চোখের পলকে ফোন আনলক করতে সক্ষম।
ক্যামেরা ও ভিডিওগ্রাফিতে বিশেষ চমক
শুধুমাত্র গেমিং নয়, ক্যামেরা বিভাগেও আইকিউ এবার বাজিমাত করেছে। iQOO 15 Ultra-তে রয়েছে ট্রিপল ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ:
মেইন লেন্স: ৫০ মেগাপিক্সেল Sony IMX921 সেন্সর (OIS সহ)।
টেলিফটো: ৫০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপ লেন্স (Sony IMX882), যা ৩এক্স অপটিক্যাল জুম এবং ১০০এক্স ডিজিটাল জুম সাপোর্ট করে।
আল্ট্রাওয়াইড: ৫০ মেগাপিক্সেল লেন্স।
দিনের আলোতে তোলা ছবির কালার টোন অত্যন্ত ন্যাচারাল এবং ডাইনামিক রেঞ্জ চমৎকার। তবে এর সবচাইতে বড় শক্তির জায়গা হলো লো-লাইট বা রাতের ছবি। লো-লাইটে এটি বর্তমানে বাজারের অন্যতম সেরা ক্যামেরা ফোন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ভিডিওর ক্ষেত্রে এটি ৮কে ৩০ এফপিএস এবং ৪কে ৬০ এফপিএস পর্যন্ত হাই-কোয়ালিটি ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। সেলফি প্রেমীদের জন্য সামনে দেওয়া হয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের শুটার।
ব্যাটারি ও চার্জিং প্রযুক্তিতে নতুন রেকর্ড
ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে আপনাকে বিন্দুমাত্র চিন্তা করতে হবে না। iQOO 15 Ultra-তে দেওয়া হয়েছে বিশাল ৭৪০০ এমএএইচ (7400mAh) সিলিকন কার্বন ব্যাটারি। বক্সে দেওয়া ১০০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং ব্রিক দিয়ে খুব দ্রুত ফোনটি চার্জ করা সম্ভব। এছাড়া রয়েছে ৪০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা। গেমারদের জন্য এতে ‘বাইপাস চার্জিং’ মোড দেওয়া হয়েছে, যার ফলে চার্জে লাগিয়ে গেম খেললেও ফোনের ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং ফোন অতিরিক্ত গরম হবে না।
সফটওয়্যার ও কানেক্টিভিটি
ফোনটি লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৬ (Android 16) ভিত্তিক অরিজিন ওএস ৬-এ চালিত। কানেক্টিভিটি হিসেবে এতে ওয়াই-ফাই ৭, ব্লুটুথ ৫.৪, এনএফসি এবং আইআর ব্লাস্টার রয়েছে। যদিও এটি চাইনিজ ভেরিয়েন্ট হিসেবে বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে, তবে গুগল সার্ভিস বা হোয়াটসঅ্যাপ নোটিফিকেশন নিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। এর লাউডস্পিকার কোয়ালিটিও বেশ উন্নত, যেখানে ৫০:৫০ ব্যালেন্সড স্টেরিও স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশে iQOO 15 Ultra-র দাম ও ভেরিয়েন্ট
বাংলাদেশে এই ফোনটি বর্তমানে আনঅফিসিয়ালভাবে পাওয়া যাচ্ছে। টেক এন্ড টক বিডির মতো বিভিন্ন শপে এর ১৬ জিবি র্যাম ও ৫নি১২ জিবি স্টোরেজ ভেরিয়েন্টের দাম ১,১০,০০০ থেকে ১,৩০,০০০ টাকার আশেপাশে। এছাড়া বিশেষ ‘সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭ এডিশন’ (১৬ জিবি/৫১২ জিবি) এর দাম বাংলাদেশে প্রায় ১,৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে সময়ের সাথে এবং শপভেদে এই দামে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
একনজরে এই ফোনের ভালো ও মন্দ দিক:
ইতিবাচক দিক:
স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ এবং Q3 গেমিং চিপের অদম্য শক্তি।
৭৪০০ এমএএইচ বিশাল ব্যাটারি ও ১০০ ওয়াট চার্জিং।
১৪৪ হার্টজ ২কে উচ্চমানের এম৪ অ্যামোলেড ডিসপ্লে।
ইন-বিল্ট কুলিং ফ্যান যা ফোনকে ঠান্ডা রাখে।
সেরা মানের লো-লাইট ফটোগ্রাফি।
সীমাবদ্ধতা:
৩.৫ এমএম অডিও জ্যাক নেই।
এসডি কার্ড ব্যবহারের সুযোগ নেই।
ফোনটি ওজনে কিছুটা ভারী (২২৭ গ্রাম)।
শেষ কথা
স্মার্টফোন প্রযুক্তির এই যুগে iQOO 15 Ultra নিজেকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যারা সাধারণ স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে এক অবিশ্বাস্য গতির অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য এটি বর্তমানে সেরা বিকল্প। এর ডিসপ্লে, ক্যামেরা এবং বিশেষ করে এর গেমিং ক্ষমতা একে সত্যিকারের একটি ‘আল্ট্রা’ ডিভাইসে পরিণত করেছে। আপনি যদি আপনার বাজেটের সেরা ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি খুঁজছেন যা আগামী কয়েক বছর দাপটের সাথে চলবে, তবে এই ফোনটি হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। তবে কেনার আগে অবশ্যই ফোনের ভেরিয়েন্ট এবং সার্ভিস সাপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো।
Comments
Post a Comment