S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

Oppo A6s Pro রিভিউ: ৭০০০ mAh ব্যাটারি ও সেরা ডিজাইন

February 28, 2026

 

Oppo A6s Pro smartphone full review and official price in Bangladesh
অপো এ৬এস প্রো: ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও প্রিমিয়াম ডিজাইনের নতুন চমক

Oppo A6s Pro রিভিউ: ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও দুর্দান্ত ডিজাইনের স্মার্টফোনে কী থাকছে?

স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিনিয়ত নতুনত্ব নিয়ে আসার প্রতিযোগিতায় এবার একটি ব্যতিক্রমী ডিভাইস নিয়ে হাজির হয়েছে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড অপো। মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং মজবুত বিল্ড কোয়ালিটির সমন্বয়ে তারা বাজারে এনেছে Oppo A6s Pro। সাধারণত এত বড় ব্যাটারির ফোনগুলো বেশ ভারী এবং মোটা হয়, তবে এক্ষেত্রে অপো এক নতুন চমক দেখিয়েছে। অত্যন্ত স্লিম ও কম্প্যাক্ট ডিজাইনের ভেতর ৭০০০ এমএএইচ (7000 mAh) এর বিশাল ব্যাটারি যুক্ত করে প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই ফোনে যেমন কিছু দুর্দান্ত এবং আকর্ষণীয় ফিচার রয়েছে, তেমনি দামের তুলনায় স্পেসিফিকেশনে কিছু ঘাটতিও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের হতাশ করেছে। আজকের এই রিভিউতে আমরা এই ডিভাইসের ডিজাইন, পারফরম্যান্স, ক্যামেরা এবং স্পেসিফিকেশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

১. Oppo A6s Pro লঞ্চ তারিখ (Launch Date)

স্মার্টফোনটি বাংলাদেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে। লঞ্চ হওয়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন অপো শোরুম এবং রিটেইল স্টোরগুলোতে ডিভাইসটি পাওয়া যাচ্ছে।

২. Oppo A6s Pro প্রাইস (Price in Bangladesh)

বাংলাদেশের বাজারে Oppo A6s Pro স্মার্টফোনটির একমাত্র ভেরিয়েন্ট (৮ জিবি র‍্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ) এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯,৯৯০ টাকা। ৪০ হাজার টাকার বাজেটে এই ফোনটি বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবে।

৩. নেটওয়ার্ক (Network)

বর্তমান সময়ে এই বাজেটে ৫জি (5G) নেটওয়ার্ক সাপোর্ট সবারই প্রত্যাশা থাকে। তবে দুঃখজনকভাবে এটি একটি ৪জি (4G) সাপোর্টেড স্মার্টফোন। এতে ২জি, ৩জি এবং ৪জি (LTE) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে। ডুয়াল সিমের এই ফোনে ভোএলটিই (VoLTE) সাপোর্ট রয়েছে, যা ক্লিয়ার ভয়েস কলিং নিশ্চিত করে।

৪. বডি ও ডিজাইন (Body & Design)

ডিজাইনের দিক থেকে ফোনটি অত্যন্ত প্রিমিয়াম এবং টেকসই। বডি প্লাস্টিকের তৈরি হলেও হাতে নিলে দারুণ একটি সলিড অনুভূতি পাওয়া যায়। এর পেছনের প্যানেলে 'ফরেস্ট প্যাটার্ন' নামক একটি থ্রিডি ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক হলো এর স্থায়িত্ব। ফোনটি মিলিটারি স্ট্যান্ডার্ড (MIL-STD-810H) সার্টিফাইড, অর্থাৎ হাত থেকে পড়ে গেলেও এটি সহজে ভাঙবে না। এছাড়া এতে আইপি৬৮ এবং আইপি৬৯কে (IP68/IP69K) রেটিং রয়েছে, অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ ডাস্টপ্রুফ এবং পানিতে ডুব দিলেও কোনো ক্ষতি হবে না।

৫. ডিসপ্লে (Display)

ফোনটিতে রয়েছে ৬.৫৭ ইঞ্চির একটি ফুল এইচডি প্লাস (FHD+) অ্যামোলেড (AMOLED) পাঞ্চ-হোল ডিসপ্লে। এর রেজোলিউশন ১০৮০x২৪৩৬ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্জ (120 Hz), যা স্ক্রলিং এবং গেমিংয়ের সময় স্মুথ অভিজ্ঞতা দেয়। ১৪০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস থাকায় কড়া রোদের আলোতেও স্ক্রিন দেখতে কোনো সমস্যা হয় না।

৬. প্ল্যাটফর্ম (Chipset & OS)

  • চিপসেট: মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ (MediaTek Helio G100) - ৬ ন্যানোমিটার

  • সিপিইউ: অক্টা-কোর

  • জিপিইউ: মালি-জি৫৭ এমসি২

  • অপারেটিং সিস্টেম: অ্যান্ড্রয়েড ১৬ (Android 16), সাথে কালারওএস ১৬ (ColorOS 16)।

৪০ হাজার টাকা দামের ফোনে হেলিও জি১০০ প্রসেসর ব্যবহার করাটা এই ফোনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে অপো তাদের কালারওএস-এর চমৎকার অপ্টিমাইজেশন দিয়ে সাধারণ ব্যবহার ও মাল্টিটাস্কিংয়ে ল্যাগ-ফ্রি অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করেছে।

৭. মেমোরি (Memory)

ডিভাইসটিতে ৮ জিবি এলপিডিডিআর৪এক্স (LPDDR4X) র‍্যাম এবং ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ দেওয়া হয়েছে। স্টোরেজ টাইপ হিসেবে ইউএফএস ২.২ (UFS 2.2) ব্যবহার করা হয়েছে। এতে হাইব্রিড সিম স্লট রয়েছে।

৮. ক্যামেরা (Camera Setup)

পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা এবং ২ মেগাপিক্সেলের অক্সিলারি লেন্স রয়েছে। দিনের আলোতে মূল ক্যামেরাটি ন্যাচারাল স্কিন টোন এবং চমৎকার ডিটেইলস ক্যাপচার করতে পারে। তবে এই বাজেটে কোনো আল্ট্রাওয়াইড (Ultrawide) বা টেলিফটো লেন্স দেওয়া হয়নি।
সামনের পাঞ্চ-হোল কাটআউটে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের একটি দুর্দান্ত সেলফি শুটার, যেখানে 'ফার্স্ট-এভার অটো জুম' (Auto Zoom) এবং এআই অ্যালগরিদম যুক্ত করা হয়েছে। ফ্রেমে একাধিক মানুষ চলে আসলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে সুইচ করে।

৯. সাউন্ড ও কানেক্টিভিটি (Sound & Connectivity)

মাল্টিমিডিয়া প্রেমীদের জন্য এতে স্টেরিও স্পিকার (Stereo Speakers) রয়েছে। কানেক্টিভিটি ফিচারের মধ্যে রয়েছে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই ৫, ব্লুটুথ ৫.৪ এবং এনএফসি (NFC)। তবে এতে ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাক নেই।

১০. ব্যাটারি (Battery Performance)

এই ফোনের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর বিশাল ৭০০০ এমএএইচ (7000 mAh) ব্যাটারি, যা ৫ বছর পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। ফোনটিকে দ্রুত চার্জ করার জন্য বক্সে ৮০ ওয়াটের (80W) সুপার ভুক (SuperVOOC) ফাস্ট চার্জার দেওয়া হয়েছে।

১১. Oppo A6s Pro এর ভালো ও মন্দ দিক

ভালো দিক:

  • অত্যন্ত স্লিম ডিজাইনে ৭০০০ এমএএইচ বিশাল ব্যাটারি।

  • মিলিটারী গ্রেড স্থায়িত্ব এবং IP68/IP69K ওয়াটার ও ডাস্ট রেটিং।

  • ১২০ হার্জের অ্যামোলেড ডিসপ্লে ও দুর্দান্ত কালারওএস ১৬ অপ্টিমাইজেশন।

  • অটো জুম ফিচার যুক্ত চমৎকার ৫০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা।

মন্দ দিক:

  • ৪০ হাজার টাকা বাজেটে ৪জি সাপোর্টেড প্রসেসর।

  • কোনো আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা নেই এবং ইউএফএস ২.২ স্টোরেজ।

১২. মার্কেট বিশ্লেষণ ও চূড়ান্ত মন্তব্য

আপনি যদি একজন হার্ডকোর গেমার হয়ে থাকেন এবং শুধু পারফরম্যান্সের দিকে নজর দেন, তবে হেলিও জি১০০ চিপসেট আপনাকে হতাশ করবে। তবে, আপনি যদি এমন একজন ব্যবহারকারী হন যার সারাদিন প্রচুর ফোন কল, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং মাল্টিমিডিয়া দেখার জন্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির ফোন প্রয়োজন; পাশাপাশি চান ফোনটি স্টাইলিশ এবং মজবুত হোক—তাহলে Oppo A6s Pro আপনার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পছন্দ হতে পারে। সলিড বিল্ড কোয়ালিটি এবং দুর্দান্ত সেলফি ক্যামেরার কারণে এটি দৈনন্দিন ব্যবহারে দারুণ এক অভিজ্ঞতা দেবে।

Oppo A6s Pro রিভিউ-এর বিস্তারিত ভিডিও দেখুন-

ভিডিও সৌজন্যে: TECH TV BSL


Comments