🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন।🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে!🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।
বর্তমান স্মার্টফোনের বাজারে যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতারা দিশেহারা, ঠিক তখনই আশার আলো নিয়ে হাজির হয়েছে প্রোটন গ্লোরি i30 স্মার্টফোন। দেশীয় ব্র্যান্ড প্রোটন (Proton)-এর নতুন এই এন্ট্রি-লেভেল ডিভাইসটি বাজারে আসার পর থেকেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র ১১,০০০ টাকা বাজেটে ফোনটি কী কী সুবিধা দিচ্ছে এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে এটি কতটা টিকবে, তা নিয়েই আজকের এই বিস্তারিত পর্যালোচনা। বাজেট সেগমেন্টে সাধারণত ক্রেতাদের অনেক ছাড় দিতে হয়, কিন্তু প্রোটন চেষ্টা করেছে সেই গৎবাঁধা নিয়ম ভাঙতে।
প্রোটন গ্লোরি i30 স্মার্টফোন-এর ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
একটি ফোনের প্রতি ক্রেতার আগ্রহ তৈরি করতে এর ডিজাইনের ভূমিকা অপরিসীম। প্রোটন গ্লোরি i30 স্মার্টফোন-এর ক্ষেত্রে প্রথমেই যা নজর কাড়ে, তা হলো এর ‘ডার্ক মিরর’ (Dark Mirror) ফিনিশ। প্লাস্টিক বডি হওয়া সত্ত্বেও এর পেছনের অংশটি কাঁচের মতো চকচকে, যা একে প্রিমিয়াম লুক দেয়। আলোর বিপরীতে ধরলে এতে ফেদার বা পালকের মতো একটি প্যাটার্ন ফুটে ওঠে, যা দেখতে বেশ নান্দনিক।
তবে এই মিরর ফিনিশের একটি নেতিবাচক দিক হলো, এটি প্রচুর পরিমাণে আঙুলের ছাপ এবং ধুলোবালি আকর্ষণ করে। তাই ফোনটি দাগমুক্ত রাখতে বক্সে দেওয়া সিলিকন কভারটি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ৬.৭৫ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে থাকা সত্ত্বেও ফোনটি খুব একটা ভারী মনে হয় না। এছাড়া ফোনটিতে আইপি৬৪ (IP64) রেটিং থাকায় এটি ধুলোবালি এবং পানির ঝাপটা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
ডিসপ্লে এবং ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা
ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭৪৫ ইঞ্চির এইচডি প্লাস আইপিএস ডিসপ্লে। এর সবচেয়ে বড় চমক হলো ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং ১৮০ হার্টজ টাচ স্যাম্পলিং রেট। ডিসপ্লের সুরক্ষার জন্য এতে পান্ডা গ্লাস প্রোটেকশন ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনের ওপরের দিকে থাকা ডিউ-ড্রপ নচকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘ডায়নামিক আইল্যান্ড’-এর মতো ফিচার দেওয়া হয়েছে, যেখানে চার্জিং বা মিউজিক নোটিফিকেশন সুন্দর এনিমেশনে ভেসে ওঠে।
প্রোটন গ্লোরি i30 স্মার্টফোন-এর পারফরম্যান্স ও হার্ডওয়্যার
হার্ডওয়্যার সেকশনে এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি৫০ (Helio G50) চিপসেট। সত্য বলতে, এটি একটি বেসিক এন্ট্রি-লেভেল প্রসেসর। সাধারণ ফেসবুকিং, ইউটিউব ব্রাউজিং বা ছোটখাটো অ্যাপ ব্যবহারের জন্য প্রোটন গ্লোরি i30 স্মার্টফোন ঠিকঠাক কাজ করবে। তবে আপনি যদি গেমার হন বা ভারী মাল্টিটাস্কিং করতে চান, তবে এই ফোনটি আপনাকে কিছুটা হতাশ করতে পারে।
পর্যালোচকদের মতে, প্রোটন যদি এই মডেলটিতে মিডিয়াটেকের পুরনো চিপসেটের বদলে ইউনিসকের (Unisoc T612 বা T606) চিপসেট ব্যবহার করত, তবে পারফরম্যান্স ও দামের ভারসাম্য আরও চমৎকার হতো। তবুও, সাধারণ ব্যবহারকারীদের বেসিক কাজের জন্য এটি খুব একটা ভোগাবে না।
স্টোরেজ ও র্যাম: এই বাজেটে অপ্রতিদ্বন্দ্বী
ফোনের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ এখন স্টোরেজ সংকট। কিন্তু এখানে প্রোটন এক ধাপ এগিয়ে। মাত্র ১১,০০০ টাকায় তারা দিচ্ছে ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ এবং ৪ জিবি র্যাম। এই প্রাইস পয়েন্টে ১২৮ জিবি স্টোরেজ নিঃসন্দেহে একটি বড় প্লাস পয়েন্ট, যা সচরাচর দেখা যায় না।
প্রোটন গ্লোরি i30 স্মার্টফোন-এর ক্যামেরা সেকশন
ফোনের পেছনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা এবং সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। দিনের আলোতে বা পর্যাপ্ত আলোতে তোলা ছবিগুলো বেশ ভালো আসে। কালারগুলো একটু পপ-আপ বা উজ্জ্বল দেখায়, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য উপযোগী। তবে কম আলোতে বা ছায়ায় প্রোটন গ্লোরি i30 স্মার্টফোন-এর ক্যামেরায় কিছুটা নয়েজ বা ডিটেইলস হারানোর প্রবণতা দেখা যায়। সাধারণ ডকুমেন্ট স্ক্যান বা ভিডিও কলের জন্য এর ক্যামেরা যথেষ্ট।
ব্যাটারি ও চার্জিং
এই ফোনের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর বিশাল ৬০০০ এমএএইচ (6000mAh) ব্যাটারি। সাথে বক্সে দেওয়া হয়েছে ২০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার। একবার ফুল চার্জ দিলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন পার করে দিতে পারবেন। টাইপ-সি পোর্টের মাধ্যমে চার্জিং সুবিধা থাকায় এটি আধুনিক সকল সুবিধাই নিশ্চিত করছে।
সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস
ফোনটি লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৫ (Android 15) এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর ইউজার ইন্টারফেস (UI) অনেকটা স্টক অ্যান্ড্রয়েডের মতো ক্লিন। এতে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা ব্লোটওয়্যার খুব একটা নেই, যা ফোনের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
শেষ কথা: কেন কিনবেন এই ফোন?
সব মিলিয়ে, আপনার বাজেট যদি ১১,০০০ টাকার আশেপাশে হয় এবং আপনি এমন একটি ফোন খুঁজছেন যার ব্যাটারি ব্যাকআপ দুর্দান্ত ও স্টোরেজ বেশি, তবে প্রোটন গ্লোরি i30 স্মার্টফোন আপনার জন্য একটি সেরা ডিল হতে পারে। বিশেষ করে বাবা-মা, শিক্ষার্থী বা যারা সেকেন্ডারি ফোন হিসেবে এটি ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ। দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে প্রোটন যে প্যাকেজটি অফার করছে, তা বর্তমান বাজার দরের হিসেবে যথেষ্ট ভ্যালু-ফর-মানি।
এক নজরে প্রোটন গ্লোরি i30:
ডিসপ্লে: ৬.৭৪৫ ইঞ্চি এইচডি প্লাস, ৯০ হার্টজ।
প্রসেসর: হেলিও জি৫০ (অক্টা কোর)।
মেমোরি: ৪/১২৮ জিবি।
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার, ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট।
Comments
Post a Comment