S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

Walton Xanon X50 রিভিউ ও দাম: কেমন হলো ফোনটি?

February 23, 2026

 

Walton Xanon X50 smartphone full front and back view
ওয়ালটন জেনন এক্স৫০: ৩১ হাজার টাকা বাজেটে দেশীয় ফ্ল্যাগশিপের নতুন চমক

Walton Xanon X50 রিভিউ: দেশীয় ব্র্যান্ডের নতুন ফ্ল্যাগশিপ কতটা বাজার মাতবে?

স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিনিয়ত নতুন চমক আসছে, আর এই দৌড়ে গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন Walton Xanon X50। আইফোনের গতানুগতিক ডিজাইন কপি করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ফ্রেশ একটি লুক দেওয়ার চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যামোলেড ডিসপ্লে, বিশাল ব্যাটারি, সনি সেন্সরের ক্যামেরা এবং মিলিটারি গ্রেড ডিউরেবিলিটির মতো আকর্ষণীয় সব ফিচার নিয়ে আসা এই ফোনটি কি সত্যিই বাজেটের সেরা ডিল? চলুন, আজকের এই সংবাদধর্মী রিভিউতে আমরা ডিভাইসটির প্রতিটি দিক নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করি।

Walton Xanon X50-এর বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন ও রিভিউ

লঞ্চের তারিখ (Launch Date)
ওয়ালটনের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসটি দেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে। লঞ্চের পর থেকেই Walton Xanon X50 দেশের বিভিন্ন ওয়ালটন প্লাজা ও রিটেইল স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে।

Walton Xanon X50-এর প্রাইস বা দাম (Price in Bangladesh)

বাংলাদেশের বাজারে ফোনটির ৮ জিবি র‍্যাম (সাথে ৮ জিবি ভার্চুয়াল) এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভেরিয়েন্টের অফিশিয়াল দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০,৯৯৯ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)। দেশীয় ব্র্যান্ডের একটি ফোন হিসেবে ৩১ হাজার টাকার এই বাজেট ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যার কারণ আমরা এর চিপসেট সেকশনে বিশ্লেষণ করব।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি (Design)

ডিজাইনের দিক থেকে Walton Xanon X50 একটি ফ্রেশ লুক নিয়ে হাজির হয়েছে। এর বডি সম্পূর্ণ প্লাস্টিকের তৈরি হলেও হাতে নিলে বেশ প্রিমিয়াম এবং সলিড একটি অনুভূতি পাওয়া যায়। পেছনের প্যানেলে ম্যাট ফিনিশের সঙ্গে হালকা লেন্স ফ্লেয়ারের ডিজাইন একে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফোনটি ইউনিবডি বক্সি শেপের, যার ফলে সমতল জায়গায় এটি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। তবে বক্সি শেপ হওয়ায় ব্যাককভার ছাড়া দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে হাতের তালুতে কিছুটা অস্বস্তি লাগতে পারে।

ফোনটির অন্যতম সেরা দিক হলো এর মিলিটারি স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেশন (MIL-STD-810)। অর্থাৎ সাধারণ হাত ফসকে পড়ে গেলে ফোন ভেঙে যাওয়ার ভয় কম। এছাড়া পানি ও ধুলাবালি থেকে সুরক্ষার জন্য রয়েছে IP68 রেটিং।

বডি ও ডাইমেনশন (Body)
একটি ৬৩০০ এমএএইচ ব্যাটারির ফোন কতটা স্লিম হতে পারে, তার চমৎকার উদাহরণ এই ডিভাইসটি। এর দৈর্ঘ্য ১৬২.২৩ মিমি, প্রস্থ ৭৬.৭ মিমি এবং পুরুত্ব মাত্র ৭.৮ মিমি। ব্যাটারিসহ ওজন মাত্র ১৯৬ গ্রাম। ওয়েট ডিস্ট্রিবিউশন চমৎকার হওয়ায় ফোনটি হাতে বেশ লাইটওয়েট এবং হ্যান্ডি মনে হয়।

কালার ভেরিয়েন্ট (Color Variants)
স্মার্টফোনটি তিনটি নজরকাড়া রঙে বাজারে এসেছে। এগুলো হলো— ডেজার্ট গোল্ড (Desert Gold), মিডনাইট ব্লু (Midnight Blue) এবং প্যাসিফিক ব্লু (Pacific Blue)।

Walton Xanon X50-এর ডিসপ্লে (Display)

মাল্টিমিডিয়া কনজাম্পশনের জন্য এতে দেওয়া হয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস (২৪০০x১০৮০ পিক্সেল) রেজোলিউশনের একটি পাঞ্চ-হোল অ্যামোলেড এলটিপিএস (AMOLED LTPS) ডিসপ্লে। এর ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট স্ক্রলিং বা গেমিংয়ে দারুণ স্মুথনেস নিশ্চিত করে। ১০-বিটের কালার ডেপথ থাকায় এর কালার রিপ্রোডাকশন খুবই চমৎকার। ১০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস থাকায় কড়া রোদেও স্ক্রিন দেখতে কোনো সমস্যা হয় না। প্রটেকশনের জন্য রয়েছে পান্ডা এমএন২২৮ গ্লাস। তবে নেতিবাচক দিক হলো এর বেজেল। নিচের দিকের বেজেল বেশ মোটা এবং অপ্রতিসম, যা সামনের দিকের সৌন্দর্য কিছুটা ম্লান করে দেয়।

নেটওয়ার্ক (Network)
ফোনটিতে ডুয়াল সিম ব্যবহার করা যাবে এবং এটি 2G, 3G এবং 4G নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। এতে ডুয়াল 4G VoLTE এবং VoWIFI সাপোর্ট রয়েছে। তবে এই বাজেটের একটি ফোনে 5G সাপোর্ট না থাকাটা একটু হতাশার। এছাড়া এর সিম স্লটটি হাইব্রিড; অর্থাৎ মেমোরি কার্ড ব্যবহার করতে চাইলে একটি সিম স্লট ছাড়তে হবে।

প্ল্যাটফর্ম: চিপসেট, ওএস, সিপিইউ এবং জিপিইউ (Platform)
পারফরম্যান্সের জন্য Walton Xanon X50 ফোনটিতে মিডিয়াটেকের হেলিও জি১০০ (MediaTek Helio G100) অক্টা-কোর চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৬ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি। গ্রাফিক্সের জন্য রয়েছে ARM Mali-G57 MC2 জিপিইউ। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আউট অফ দ্য বক্স পাওয়া যাবে লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৬, যার ওপর ভিত্তি করে ওয়ালটনের নিজস্ব কাস্টম ইউআই 'Dido OS' রান করবে।

যদিও হেলিও জি১০০ একটি নির্ভরযোগ্য প্রসেসর এবং আনটুটু বেঞ্চমার্কে এটি জি১০০ সিরিজের অন্য যেকোনো ফোনের চেয়ে বেশি স্কোর করেছে, তবুও ৩১ হাজার টাকা বাজেটে একটি 4G জি-সিরিজ চিপসেট মেনে নেওয়া কঠিন। তবে ৭০০০ স্কয়ার মিলিমিটারের কুলিং সিস্টেম থাকায় দীর্ঘক্ষণ গেমিংয়েও ফোনটি অতিরিক্ত গরম হয় না।

মেমোরি ও স্টোরেজ (Memory)
ফোনটিতে রয়েছে ৮ জিবি ফিজিক্যাল এলপিডিডিআর৪এক্স র‍্যাম এবং আরও ৮ জিবি ভার্চুয়াল র‍্যাম, সব মিলিয়ে ১৬ জিবি র‍্যামের সুবিধা। স্টোরেজ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ২৫৬ জিবির UFS 2.2 মেমোরি। মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ বাড়ানো যাবে।

Walton Xanon X50-এর মেইন ক্যামেরা (Main Camera)

পেছনে রয়েছে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ। প্রধান সেন্সরটি সনির (Sony IMX782) ৬৪ মেগাপিক্সেলের (f/1.8), সাথে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের একটি আল্ট্রাওয়াইড লেন্স এবং ০.০৮ মেগাপিক্সেলের একটি এআই লেন্স (যার বাস্তব কোনো ব্যবহার নেই)। দিনের আলোতে মূল ক্যামেরা দিয়ে বেশ ভালো ডিটেইলস এবং ন্যাচারাল স্কিন টোনের ছবি পাওয়া যায়। তবে ডায়নামিক রেঞ্জ খুব একটা উন্নত নয়, অনেক সময় ছবি ওয়াশড আউট মনে হতে পারে। এই ক্যামেরা দিয়ে ইআইএস (EIS) সাপোর্টসহ সর্বোচ্চ 2K রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করা যায়, তবে 4K ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা নেই।

সেলফি ক্যামেরা (Selfie Camera)
সামনের দিকে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের (f/2.2) একটি সেলফি শুটার। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার মতো বেশ ঝকঝকে ও ডিসেন্ট ছবি তুলতে সক্ষম এই ক্যামেরা। ব্যাকগ্রাউন্ড বেশি জটিল না হলে পোর্ট্রেট মোডও ভালোভাবে কাজ করে। সামনের ক্যামেরা দিয়েও 2K ভিডিও রেকর্ডিং করা যায়।

সাউন্ড কোয়ালিটি (Sound)
অডিও অভিজ্ঞতার জন্য এতে ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার দেওয়া হয়েছে। সেকেন্ডারি স্পিকারের জন্য আলাদা ডেডিকেটেড গ্রিল রয়েছে। এর সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ লাউড এবং ক্লিয়ার। সাথে একটি ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাকও রয়েছে, যা তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক।

কানেক্টিভিটি (Connectivity)
কানেক্টিভিটি ফিচারের মধ্যে রয়েছে ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই (Wi-Fi 5), ব্লুটুথ ৫.২, জিপিএস এবং ইউএসবি টাইপ-সি (OTG সাপোর্টসহ)। তবে এই বাজেটের ফোনে ওয়াই-ফাই ৬ এবং ব্লুটুথের লেটেস্ট ভার্সন না থাকাটা একটি বড় ঘাটতি।

সেন্সর ও বিশেষ ফিচার (Features)
সিকিউরিটির জন্য ডিসপ্লের নিচে (In-Display) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে। এছাড়া Walton Xanon X50 ফোনটিতে রয়েছে 'জোরা এআই' (XORA AI Agent) এর মতো বেশ কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ফিচার। এআই ইমেজ এডিটিং, এআই ট্রান্সলেটর, কল সামারি থেকে শুরু করে স্মার্ট নয়েজ ক্যান্সেলেশনের মতো প্রিমিয়াম সুবিধা মিলবে এখানে। ফোনের পেছনে নোটিফিকেশনের জন্য একটি 'ব্রিদিং হ্যালো লাইট' রয়েছে, যা দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

Walton Xanon X50-এর ব্যাটারি ও চার্জিং (Battery)

ব্যাটারি সেকশনে ওয়ালটন দারুণ চমক দেখিয়েছে। এতে ৬৩০০ এমএএইচ-এর সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তির বিশাল একটি ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিশাল ব্যাটারি দ্রুত চার্জ করার জন্য বক্সে দেওয়া হয়েছে ৩৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচার হলো এর 'বাইপাস চার্জিং' মেকানিজম— যার ফলে চার্জে লাগিয়ে গেম খেললেও ফোন অতিরিক্ত গরম হবে না।

ভালো দিক ও মন্দ দিক (Pros & Cons)
যেকোনো টেক পণ্যেরই সুবিধা-অসুবিধা থাকে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে Walton Xanon X50 স্মার্টফোনটির কিছু ভালো ও মন্দ দিক নিচে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো:

ভালো দিক (Pros):

  • ৬.৭ ইঞ্চির দারুণ অ্যামোলেড ১২০ হার্জ ডিসপ্লে।

  • ৬৩০০ এমএএইচ বিশাল ব্যাটারি ও বাইপাস চার্জিং সাপোর্ট।

  • মিলিটারি গ্রেড ডিউরেবিলিটি এবং IP68 রেটিং।

  • ২৫৬ জিবির বড় স্টোরেজ সুবিধা।

  • ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার।

  • প্রচুর এআই (AI) ফিচারের সংযোজন।

মন্দ দিক (Cons):

  • ৩১ হাজার টাকা বাজেটে MediaTek Helio G100 চিপসেট বেশ ওভারপ্রাইসড।

  • ডিসপ্লের বেজেল বেশ মোটা, যা লুক নষ্ট করে।

  • 4K ভিডিও রেকর্ডিং অপশন নেই।

  • কোনো 5G বা ওয়াই-ফাই ৬ সাপোর্ট নেই।

  • ০.০৮ মেগাপিক্সেলের থার্ড ক্যামেরাটি পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়।


বাজার বিশ্লেষণ ও চূড়ান্ত মন্তব্য
সব মিলিয়ে Walton Xanon X50 ফোনটি একটি মিশ্র অভিজ্ঞতার প্যাকেজ। আপনি যদি এমন একজন ব্যবহারকারী হন, যিনি রাফ-অ্যান্ড-টাফ ব্যবহারের জন্য টেকসই একটি ফোন চান, মাল্টিমিডিয়া উপভোগ করেন এবং বারবার চার্জ দেওয়ার ঝামেলায় যেতে চান না— তবে এই ফোনটি আপনার জন্য একটি সলিড চয়েস হতে পারে। এর ডিসপ্লে, ডিজাইন এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ আপনাকে মুগ্ধ করবে।

তবে আপনি যদি একজন হার্ডকোর গেমার হন এবং ৩১ হাজার টাকা বাজেটে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স বা লেটেস্ট 5G প্রসেসর খুঁজে থাকেন, তবে এই ফোনটি আপনার জন্য নয়। বাজেটের তুলনায় এর চিপসেট এবং নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বেশ পিছিয়ে রয়েছে। ওয়ালটন যদি ফোনটির দাম ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকার মধ্যে রাখত, তবে এটি নিঃসন্দেহে বাজারের অন্যতম সেরা একটি 'ভ্যালু ফর মানি' ডিভাইস হতে পারত। তারপরেও, দেশীয় প্রযুক্তি বাজারে প্রিমিয়াম সেগমেন্টে ওয়ালটনের এই সাহসী পদচারণা প্রশংসার দাবিদার।

Walton Xanon X50 রিভিউ-এর বিস্তারিত ভিডিও দেখুন-

ভিডিও সৌজন্যে: TECH TV BSL


Comments