S

সবএক

সব তথ্য এক ঠিকানায়

Loading...
🔴 স্বাগতম আমাদের পোর্টালে! সর্বশেষ প্রযুক্তির খবরের জন্য সাথে থাকুন। 🔴 ব্রেকিং: নতুন স্মার্টফোন বাজারে এসেছে! 🔴 সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করুন।

ZTE Nubia A76: ১৩ হাজারে সেরা ফোন?

February 19, 2026

 

ZTE Nubia A76 smartphone with iPhone like design in Bangladesh.
১৩ হাজার টাকায় আইফোন লুকের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন ZTE Nubia A76

১৩ হাজারে আইফোন লুক! বাজেটের সেরা চমক হতে পারে ZTE Nubia A76?

স্মার্টফোনের বাজারে বাজেট সেগমেন্ট বা এন্ট্রি লেভেল ক্যাটাগরি সবসময়ই বেশ জমজমাট থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা রেঞ্জের ফোনের চাহিদা সবচাইতে বেশি। ঈদ বা বিশেষ উৎসবের আগে ক্রেতারা খোঁজেন এমন একটি ডিভাইস, যা দামে হবে সাশ্রয়ী কিন্তু দেখতে হবে প্রিমিয়াম। ঠিক এই চাহিদাকে মাথায় রেখেই দেশের বাজারে নতুন আলোড়ন তুলেছে ZTE Nubia A76। মাত্র ১২,৯৯৯ টাকায় দুর্দান্ত ডিজাইন এবং লেটেস্ট সফটওয়্যারের সমন্বয় এই ফোনটিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা খুঁটিয়ে দেখব, ১৩ হাজার টাকার বাজেটে এই ফোনটি কেনা কতটা যৌক্তিক এবং এটি আসলেই ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কি না।

ZTE Nubia A76 এর ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি: বাজেটে প্রিমিয়াম চমক

প্রথম দেখাতেই ZTE Nubia A76 আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। বর্তমান সময়ে এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোনগুলোতে আইফোনের ডিজাইনের অনুকরণ একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর নুবিয়াও সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছে। তবে সস্তা প্লাস্টিক ফিলের বদলে তারা বেশ সলিড এবং প্রিমিয়াম একটি লুক দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ফোনটির ব্যাক প্যানেলে ম্যাট ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা হাতে ধরলে বেশ আরামদায়ক অনুভূতি দেয় এবং আঙুলের ছাপ পড়ার ভয় থাকে না।

ডিজাইনের ক্ষেত্রে ZTE Nubia A76 এর ক্যামেরা হাউজিংটিতে দেওয়া হয়েছে মিরর ফিনিশ, যা ফোনটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দূর থেকে দেখলে বা হাতে নিয়ে ঘুরলে, এটি যে মাত্র ১৩ হাজার টাকার ফোন, তা বোঝার উপায় নেই। এর ফ্রেমটিতে ইলেকট্রোপ্লেটিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনেকটা সিলভার বা মেটালিক আভা ছড়ায়। পাওয়ার বাটন এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি মার্জ করা হয়েছে এবং এটি দেওয়া হয়েছে উজ্জ্বল অরেঞ্জ বা কমলা রঙে। সিলভার বডির সাথে এই অরেঞ্জ বাটনের কন্ট্রাস্ট ফোনটিকে বেশ স্টাইলিশ ও মডার্ন লুক দিয়েছে। যারা কম বাজেটে আইফোনের মতো দেখতে এবং সলিড বিল্ড কোয়ালিটির ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ডিজাইন নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়।

ডিসপ্লে ও ভিউইং এক্সপেরিয়েন্স

ডিজাইন সুন্দর হলেও একটি ফোনের ব্যবহারের অভিজ্ঞতার বড় অংশ জুড়ে থাকে এর ডিসপ্লে। ZTE Nubia A76 ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭৫ ইঞ্চির একটি বিশাল এইচডি প্লাস (HD+) আইপিএস এলসিডি প্যানেল। এই ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট ৯০ হার্জ (90Hz), যা স্ক্রলিং এবং সাধারণ ব্যবহারে স্মুথ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। তবে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস নিয়ে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এর পিক ব্রাইটনেস ৫০০ নিটস। ঘরের ভেতরে বা ছায়ায় এটি ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা না হলেও, কড়া রোদে বা আউটডোরে ডিসপ্লের কন্টেন্ট দেখতে কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে।

কালার রিপ্রোডাকশনের ক্ষেত্রে ZTE Nubia A76 এর পারফরম্যান্স সাধারণ মানের। আইপিএস ডিসপ্লের সাধারণ ব্লিডিং ইস্যুগুলো এখানে তেমন একটা চোখে পড়ে না, যা এই বাজেটে স্বস্তিদায়ক। ফোনের সামনের দিকে রয়েছে ডিউ-ড্রপ নচ এবং নিচের দিকে কিছুটা মোটা বেজেল বা ‘চিন’। বর্তমান সময়ের পাঞ্চ-হোল ডিসপ্লের যুগে ডিউ-ড্রপ নচ কিছুটা পুরোনো মনে হতে পারে, তবে বাজেটের কথা মাথায় রাখলে এটি মেনে নেওয়া যায়।

ZTE Nubia A76 এর হার্ডওয়্যার ও পারফরম্যান্স

বাইরের সৌন্দর্য তো গেল, এবার আসা যাক ফোনের প্রাণভোমরা বা প্রসেসরের কথায়। ZTE Nubia A76 ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে ইউনিসক টি৭২৫০ (Unisoc T7250) চিপসেট। এটি একটি অক্টা-কোর প্রসেসর যার ক্লক স্পিড ১.৮ গিগাহার্জ। সাথে রয়েছে মালি-জি৫৭ জিপিইউ (Mali-G57 GPU)। মেমোরি হিসেবে থাকছে ৪ জিবি র‍্যাম এবং ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ। বেঞ্চমার্ক টেস্টে এই চিপসেটটি বেশ ভালো স্কোর করেছে। আনটুটু (AnTuTu) বেঞ্চমার্কে এর স্কোর এসেছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯০ এর আশেপাশে। গিকবেঞ্চে সিঙ্গেল কোরে ৪৩৮ এবং মাল্টি-কোরে ১৪৬৯ স্কোর পাওয়া গিয়েছে। এই সংখ্যার মারপ্যাঁচ বাদ দিলে সহজ কথায়—১৩ হাজার টাকার ফোনে ZTE Nubia A76 এর পারফরম্যান্স বেশ সন্তোষজনক।

দৈনন্দিন কাজ যেমন—ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম স্ক্রলিং এবং ইউটিউব ব্রাউজিংয়ে ফোনটি বেশ ভালো সাপোর্ট দেয়। মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে অ্যাপ ওপেন হতে সামান্য সময় নিলেও, তা খুব একটা বিরক্তির কারণ হয় না। তবে যেহেতু র‍্যাম মাত্র ৪ জিবি, তাই একসাথে খুব বেশি ভারি অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ZTE Nubia A76 গেমিং টেস্ট: কতটা সক্ষম?

সরাসরি বলতে গেলে, এটি কোনো ডেডিকেটেড গেমিং ফোন নয়। কিন্তু আমাদের দেশের তরুণরা সব ফোনেই কমবেশি গেম খেলতে পছন্দ করেন। ফ্রি-ফায়ার (Free Fire) গেমটি ZTE Nubia A76 এ মিডিয়াম গ্রাফিক্স সেটিংসে মোটামুটি ভালোভাবে খেলা যায়। তবে টানা অনেকক্ষণ খেললে সামান্য ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ চোখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, পাবজি (PUBG) বা কল অফ ডিউটির মতো ভারি গেমগুলো খেলতে গেলে আপনাকে গ্রাফিক্স এবং ফ্রেম রেটে বেশ খানিকটা ছাড় দিতে হবে। লো সেটিংসে গেম খেলা সম্ভব হলেও, খুব স্মুথ এক্সপেরিয়েন্সের আশা করা ঠিক হবে না। তবে ক্যাজুয়াল গেমারদের জন্য বা অবসর সময়ে ছোটখাটো গেম খেলার জন্য এটি ঠিকঠাক।

সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস

এই ফোনের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর সফটওয়্যার। বাজেটের ফোন হওয়া সত্ত্বেও ZTE Nubia A76 রান করছে একদম লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৫ (Android 15) ভার্সনে। এর উপরে রয়েছে নুবিয়ার নিজস্ব ইউজার ইন্টারফেস MyOS 15। MyOS ইন্টারফেসটি বেশ ক্লিন এবং গোছানো। এটি কিছুটা স্টক অ্যান্ড্রয়েডের ভাইব দেয়। খুব বেশি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা ব্লটওয়্যার এতে নেই, আর যেগুলো আছে তা চাইলেই আনইনস্টল করা যায়। এন্ট্রি লেভেলের ফোনে সাধারণত সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন ভালো হয় না, কিন্তু ZTE Nubia A76 এখানে বেশ ভালো কাজ করেছে।

ক্যামেরা সেকশন: ছবি কেমন তোলে ZTE Nubia A76?

ফটোগ্রাফির জন্য ফোনটির পেছনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের এআই ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ। আর সেলফির জন্য সামনে দেওয়া হয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। দিনের আলোতে বা পর্যাপ্ত আলোতে ZTE Nubia A76 এর মেইন ক্যামেরা দিয়ে বেশ ভালো ছবি তোলা সম্ভব। ছবির কালার এবং ডিটেইলস দাম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য। তবে ডায়নামিক রেঞ্জ বা আলো-ছায়ার ব্যালেন্স করতে গিয়ে ক্যামেরাটি মাঝেমধ্যে হিমশিম খায়।

রাতের বেলা বা কৃত্রিম আলোতে ছবির মান কিছুটা কমে যায়। ডিটেইলস হারিয়ে যায় এবং ছবিতে নয়েজ বা ঝিরঝিরে ভাব চলে আসে। এছাড়া ফেস বিউটিফিকেশন বা স্কিন টোন প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে এটি ছবিকে একটু বেশি সফট বা মসৃণ করে ফেলে। সহজ কথায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার মতো সাধারণ ছবি তোলার জন্য ZTE Nubia A76 ঠিক আছে, তবে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির জন্য এটি নয়।

ব্যাটারি ও চার্জিং প্রযুক্তি

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের অন্যতম প্রধান চিন্তার বিষয় হলো ব্যাটারি লাইফ। ZTE Nubia A76 এ রয়েছে ৫০০০ এমএএইচ (mAh) ব্যাটারি। সাধারণ ব্যবহারে এটি অনায়াসেই এক থেকে দেড় দিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। তবে চমকটি রয়েছে চার্জিংয়ে। বক্সের ভেতরেই কোম্পানি ২২.৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার এবং টাইপ-সি ক্যাবল দিয়েছে। সাধারণত এই বাজেটের ফোনগুলোতে ১০ বা ১৮ ওয়াটের চার্জার দেখা যায়। সেখানে ২২.৫ ওয়াট চার্জিং সাপোর্ট এবং বক্সেই চার্জার পাওয়াটা নিঃসন্দেহে একটি বড় প্লাস পয়েন্ট।

ZTE Nubia A76 এ থাকছে এনএফসি (NFC) সুবিধা

১৩ হাজার টাকার ফোনে সাধারণত আমরা বেসিক সেন্সরগুলো পেলেই খুশি থাকি। সেখানে নুবিয়া সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই ফোনে দিয়েছে এনএফসি (NFC) সাপোর্ট! বাংলাদেশে এনএফসির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে মেট্রো রেলের পাস রিচার্জ বা ট্যাপ-টু-পে সিস্টেমে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাসে বা শপিং মলে ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে এই ফিচারটি অত্যন্ত কাজে আসবে। এছাড়া ZTE Nubia A76 এ রয়েছে ব্লুটুথ ৫.২, ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াইফাই এবং ফোরজি ভোএলটিই (VoLTE) সুবিধা।

মূল্য ও ওয়ারেন্টি

বাংলাদেশে ZTE Nubia A76 এর ৪ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভেরিয়েন্টটির অফিসিয়াল দাম ধরা হয়েছে ১২,৯৯৯ টাকা। যেহেতু এটি অফিসিয়াল ফোন, তাই এর সাথে ১ বছরের ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে। বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম যেমন পিকাবু (Pickaboo) এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন অফলাইন রিটেইল শপে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে।

কেন কিনবেন বা কেন কিনবেন না?

সব মিলিয়ে ZTE Nubia A76 স্মার্টফোনটিকে একটি ‘নিরাপদ’ বা ‘সেফ’ অপশন বলা যেতে পারে। আপনি যদি এমন কেউ হন যার বাজেট একদম টাইট, কিন্তু দেখতে সুন্দর, অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিযুক্ত এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ফোন খুঁজছেন, তবে এটি আপনার তালিকায় ওপরের দিকেই থাকবে।

এই ফোনটি তাদের জন্য সেরা যারা ফোনে ভারি গেম খেলেন না, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া বেশি ব্যবহার করেন এবং ফোনের লুক বা ডিজাইন যাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, যারা মূলত গেমিং করার জন্য ফোন কিনছেন বা যাদের খুব ভালো মানের ক্যামেরা প্রয়োজন, তাদের জন্য ZTE Nubia A76 হয়তো সেরা পছন্দ হবে না। তবে বর্তমান বাজারের অস্থির মূল্যের ভিড়ে ১২,৯৯৯ টাকায় ১২৮ জিবি স্টোরেজ, ২২.৫ ওয়াট চার্জার, এনএফসি এবং লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১৫ এর সুবিধা দেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

ZTE Nubia A76 রিভিউ-এর বিস্তারিত ভিডিও দেখুন-

ভিডিও সৌজন্যে: TECH TV BSL


Comments