![]() |
| দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার |
দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার: আস্থার চরম সংকটে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা
দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের ধারাবাহিক নানা উদ্যোগের পরও বাজারে প্রত্যাশিত গতি দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, মানসম্মত কোম্পানির ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থাহীনতার কারণে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ করেছে।
পুঁজিবাজারে অস্থিরতার নেপথ্য কারণ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারের আচরণের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রতিদিনই লেনদেনের শুরুতে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও কিছুক্ষণ পরেই ব্যাপক বিক্রয়চাপে তা মুখ থুবড়ে পড়ছে। ২০১০ সালের মহাধসের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও দেশের পুঁজিবাজার এখনও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর আশা জাগলেও বাস্তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট প্রকট।
“পুঁজিবাজারের ভেতরের মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক এবং নীতিগত কিছু সমস্যা রয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে অস্থির, অগভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ করে রেখেছে। ভালো শেয়ারের জোগান না থাকায় বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।”
লেনদেনের চিত্র ও বাজার পরিস্থিতি
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৫টির এবং কমেছে ১৮২টির। লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা কমেছে। নিচে সর্বশেষ লেনদেনের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| সূচকের নাম | বর্তমান অবস্থান | পরিবর্তন (পয়েন্ট) |
|---|---|---|
| ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (DSEX) | ৫,৮৮৩ | ১৩ (কমেছে) |
| ডিএসই ৩০ সূচক | ২,১৯২ | ৭ (কমেছে) |
| ডিএসই শরিয়াহ সূচক | ১,১৭৭ | ৩ (কমেছে) |
| মোট লেনদেন (ডিএসই) | ৯২৫.৬৬ কোটি টাকা | ১৪৮.০৭ কোটি (হ্রাস) |
আস্থার সংকটে মার্জিন ঋণের প্রভাব
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী বলেন, পুঁজিবাজারে বর্তমানে কিছুটা আস্থার সংকট কাজ করছে। বিশেষ করে মার্জিন ঋণের নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চিত্র
ডিএসইতে দরপতন হলেও সিএসইতে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫,৮০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে সেখানেও দর কমা কোম্পানির সংখ্যাই বেশি ছিল। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৩টি কোম্পানির মধ্যে ১০৪টির দর কমেছে এবং ৯১টির দর বেড়েছে।
বাজার উত্তরণে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
- ভালো মানের ও লাভজনক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।
- বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
- কারসাজি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
- প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. পুঁজিবাজারে কেন বারবার দরপতন হচ্ছে?
মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব, ভালো শেয়ারের সংকট এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাজার বারবার দরপতনের সম্মুখীন হচ্ছে।
২. মার্জিন ঋণের নতুন নীতিমালা কী?
মার্জিন ঋণের নীতিমালা বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার জন্য ঋণ সুবিধার নিয়মাবলী সহজ বা যুগোপযোগী করতে চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যা নিয়ে বর্তমানে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
৩. সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এখন করণীয় কী?
অস্থির বাজারে হুজুগে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল এবং আর্থিক প্রতিবেদন দেখে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন